হিমালয়ের তুষার-ঢাকা শিখরে চীনের আধুনিক আরমি‑কে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘জোরাভার’ হালকা ট্যাঙ্কটি প্রস্তুত হয়েছে। এএম নাইকি হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং ও লাফারি ডিফেন্সের সমন্বয়ে এই ট্যাঙ্কে ৪০ টন ওজন, ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতি এবং আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম যুক্ত আছে।
‘জোরাভার’কে হিমালয়ীয় ভূখণ্ডে গতি, চৌকসতা এবং গর্জন‑শক্তি বজায় রাখতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে; এতে উচ্চ অ্যালুমিনিয়াম অয়েল্ড এবং কম্পোজিট ভেস্টে গঠিত সুরক্ষা কাঠামো রয়েছে। ট্যাঙ্কের মাধ্যাকর্ষণ-প্রতিরোধী চাকার ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় টার্গেটিং রডার চীনের তিয়ানশান-সামরিক যানবাহনের তুলনায় সমান বা অধিক পারফরম্যান্সের দাবি করে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মেড‑ইন‑ইন্ডিয়া’ নীতি অনুসারে জোরাভার ট্যাঙ্কের উৎপাদন দেশীয় শিল্পকে ত্বরান্বিত করবে এবং রপ্তানির নতুন দিক উন্মোচন করবে। বর্তমানে ভারতের ডিফেন্স কন্ট্রাক্টস অফিস (DCO) রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে ট্যাঙ্কের সম্ভাব্য বিক্রয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রুশের T‑90 ট্যাঙ্কের তুলনায় হালকা ও চৌকস জোরাভারকে বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়া, যা সামরিক সরঞ্জামের রপ্তানিতে ঐতিহাসিকভাবে বড় গ্রাহক, তার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য জোরাভারকে এক সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। যদি এই আলোচনায় চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে ভারত-রাশিয়া সশস্ত্র সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং চীনকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে।
উপসংহারে বলা যায়, জোরাভার ট্যাঙ্ক কেবল ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের গর্ব নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড‑ইন‑ইন্ডিয়া’ পণ্যের শক্তি প্রমাণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রুশের আগ্রহের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে, এটি ভারতকে উচ্চপ্রযুক্তি ট্যাঙ্ক রপ্তানিতে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে।
