ময়দানের রেডি ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে প্রস্তুত হয়েছেন। তিনি বললেন, “রোগী রেফার এবং দালাল চক্র রুখতে আমরা লাইভ মনিটরিং চালু করছি; কোনো গোপন চুক্তি না, রোগীর স্বার্থই শীর্ষে থাকবে।” এই ঘোষণার সঙ্গেই তিনি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের নতুন ধাপ উন্মোচন করে, যা দেশের সর্বোচ্চ স্তরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে লক্ষ্যবস্তু।
লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা হল একধরনের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, যেখানে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও রেফারেল সেন্টারের সব লেনদেন রিয়েল‑টাইমে কেন্দ্রীয় কমান্ডে দেখা যাবে। এতে রোগী রেফারেন্সের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, দালালদের অপ্রয়োজনীয় মার্জিন কাটার সুযোগ কমবে এবং শাসক সংস্থাগুলো দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারবে। প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে রাজ্য আইটি বিভাগ এবং একটি বেসরকারি সফটওয়্যার ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করে এই সিস্টেমটি চালু করা হয়েছে।
‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের অধীনে, আগামী দুই বছরে ১,২০০টি নতুন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগর দারিদ্র্যবিহীন এলাকায়। এছাড়া, বর্তমানে কাজ করা ৩৫০টি হাসপাতালের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, ডায়াগনস্টিক সুবিধা আপগ্রেড এবং স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। লক্ষ্য হল ২০২৯ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ১,০০০ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজনের সাশ্রয়ী, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রীর বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছেন, “স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা ও গুণগত মানই আমাদের স্বাস্থ্য নীতি। আমরা রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করে, দালাল চক্রকে নীরবে না রাখব।” তিনি এও জানিয়েছেন, যে কোনো অভিযোগের জন্য একটি হটলাইন ও মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যেখানে রোগী সরাসরি সমস্যার রিপোর্ট করতে পারবে এবং তৎক্ষণাত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডঃ অমিতাভ গৌড়, যিনি সংস্থার অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করবেন।
উপসংহারে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো স্বাস্থ্য সেবার স্বচ্ছতা ও সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকারের দিক থেকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায়। লাইভ মনিটরিং ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সমন্বয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতি অর্জন করবে বলে আশা করা যায়। যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রোগীর রেফার ও দালাল চক্রের অবসানই নয়, বরং সবার জন্য গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
