
অবসর নিলে বিলিয়ন ডলারের বিমানগুলো কোথায় যায়? জানুন আকাশযানগুলোর শেষ গন্তব্যের রহস্য
আকাশযানের আয়ু শেষ হলে তা কোথায় যায়? মরুভূমির 'এয়ারক্রাফট গ্রেভইয়ার্ড' থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশের পুনর্ব্যবহার— জানুন বিলিয়ন ডলারের বিমানগুলোর অবসরের পর কী হয়।
আকাশে উড়তে থাকা বিশাল এক ধাতব যন্ত্রের দিকে তাকালে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে— এই বিমানগুলো ঠিক কত বছর ধরে উড়তে পারে? আমরা যেমন পুরনো গাড়ি বা বাস বদলে ফেলি, ঠিক তেমনই বিমানেরও একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে। নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিটি বিমানকে 'অবসর' নিতে হয়। কিন্তু কোটি কোটি ডলার মূল্যের এই বিশাল যন্ত্রগুলো অবসরের পর কোথায় যায়? এই প্রশ্নটি অনেকের কাছেই রহস্যের।
সাধারণত একটি বাণিজ্যিক বিমানের আয়ু ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত হয়। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিমানটি কত ঘণ্টা উড়েছে এবং কীভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে তার ওপর। যখন কোনো বিমান আর উড়তে সক্ষম থাকে না বা তার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ লাভের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়ায়, তখন এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো সেটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর শুরু হয় এই বিশাল যন্ত্রগুলোর শেষ যাত্রার প্রস্তুতি।
অবসরের পর অধিকাংশ বিমান পাঠানো হয় বিশেষ ধরনের 'এয়ারক্রাফট গ্রেভইয়ার্ড' বা বিমানের কবরস্থানে। মূলত আমেরিকার অ্যারিজোনার মতো শুষ্ক মরুভূমি এলাকাগুলোতে এই বিশাল সংগ্রহশালাগুলো গড়ে উঠেছে। মরুভূমির শুষ্ক জলবায়ুর কারণে বিমানের ধাতব অংশে মরচে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে, ফলে যন্ত্রাংশগুলো দীর্ঘকাল অক্ষত থাকে। সেখানে শত শত বিমান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন এক অদ্ভুত ধাতব শহর।
তবে সব বিমানই যে ধ্বংস হয়ে যায়, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বিমানের মূল্যবান যন্ত্রাংশগুলো খুলে নেওয়া হয় এবং অন্য সচল বিমানের মেরামতির কাজে ব্যবহার করা হয়। একে বলা হয় 'পার্টিং আউট'। এছাড়া কিছু বিমানকে রূপান্তরিত করে পণ্য পরিবহনের কাজে লাগানো হয়। আর যেগুলোর আর কোনো ব্যবহার থাকে না, সেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভেঙে ফেলে ধাতু রিসাইকেল করা হয়, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না করে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে এখন অনেক নতুন এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী বিমান বাজারে আসছে। ফলে পুরনো মডেলের বিমানগুলোর অবসর নেওয়ার হার বাড়ছে। আকাশযানগুলোর এই জীবনচক্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির দুনিয়ায় কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। বিলিয়ন ডলারের এই আকাশযানগুলো শেষ পর্যন্ত মরুভূমির নির্জনতায় অথবা রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের চুল্লিতে মিশে গিয়েই তাদের যাত্রা শেষ করে।




