
ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতে আসবে দুর্লভ খনিজ; মোদীর সফরে প্রযুক্তি দৌড়ে ভারত এগিয়ে
মোদীর জাকার্তা সফরে স্বাক্ষরিত রেয়ার আর্থ চুক্তি ভারতকে দুর্লভ খনিজের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে, ইন্দোনেশিয়ার জন্য নতুন রপ্তানি বাজারের পথে দোরগোড়া খুলবে।
ঝাঁঝমুক্ত জাকার্তা শহরে আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রেয়ার আর্থ মিনারেলস—যা আধুনিক ইলেকট্রনিক, গৃহস্থালী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল উপাদান—ইন্দোনেশিয়া থেকে সরাসরি ভারতে প্রবাহিত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এধরনের চুক্তি দেশীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
মোদি সরকার রেয়ার আর্থের স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি পূরণে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। চুক্তির আওতায় প্রথম দুই বছর পর্যন্ত প্রতি বছর প্রায় ১২০ টন রেয়ার আর্থ ভেড়া ভারতীয় শোধনাগারে পাঠানো হবে; একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার খনন প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভাগ করা হবে। এভাবে উভয় দেশই রেয়ার আর্থের গ্লোবাল সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, রেয়ার আর্থের ঘাটতি এখনো ভারতের উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ার জন্যও রেয়ার আর্থের রপ্তানি নতুন আয়-উৎস হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এখনো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত বাধা অতিক্রম করতে হবে। রেয়ার আর্থের শোধন প্রক্রিয়ায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ শ্রম শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি। তবে উভয় দেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত বাণিজ্যিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, মোদীর সফরে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক ভারতকে রেয়ার আর্থের ঘাটতি পূরণে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে, একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার জন্য নতুন রপ্তানি বাজারের দুয়ার খুলে দেবে। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে এই উদ্যোগ প্রযুক্তি দৌড়ে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।




