
আমফান‑এর ক্ষয়ক্ষতি ৩২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে: সিএজি রিপোর্ট
সিএজি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, শাসনকালে ২০২০ সালের আমফান দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ৩২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখিয়ে কেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এই তথ্য রাজ্য‑কেন্দ্রের আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতি সকালেই সিএজি‑এর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে জানা গিয়েছে যে শাসনকালে ২০২০ সালের সুপার সাইক্লোন আমফানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ৩২ হাজার কোটি টাকার অধিক দেখিয়ে কেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এই বৃদ্ধি মূল অনুমানকে দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া নথিতে ভিন্নতা ফুটে উঠেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রাথমিক জরুরি মূল্যায়ন করার সময় পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ না করে, প্রাক্কলনকে অতিরিক্ত করে দেখিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৩২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন পেতে পারি এমন ধারণা তৈরি হয়। যদিও সিএজি এই বিষয়টি দেখিয়ে বলেছে যে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন টাকা অথবা ৯,০০০ কোটি টাকা হয়।
বিভিন্ন বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন, এই ধরনের অযথা বৃদ্ধি রাজ্য‑কেন্দ্রের আর্থিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতির সন্দেহ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষত, কেন্দ্রীয় তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আরও কঠোর তদারকি এবং স্বতন্ত্র তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
অধিকন্তু, এই ঘটনা রাজ্য সরকারের ক্যালেন্ডারিক পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে। জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিরোধী পার্টিরা ইতিমধ্যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
উপসংহারে বলা যায়, সিএজি রিপোর্টের প্রকাশ রাজ্যের দুর্নীতি বিরোধী লড়াইকে নতুন মোড় দিয়েছে। এখন সময় এসেছে সরকারকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা পুনরায় মূল্যায়ন করতে এবং ভবিষ্যতে এধরনের আর্থিক অমিল রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।




