
আদালতে তোলার সময় সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে টমেটো‑ডিম! ছোড়া হল গোবর
মিনিটকলকাতার হাই কোর্টে ২০১৮ সালের তোলাবাজি মামলায় সাব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে টমেটো, ডিম ও গোবর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতারকৃত দত্তের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের ক্রোধ তীব্রতর হয়েছে।
গভীর রাতে কলকাতা হাই কোর্টের গ্যালারিতে এক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, যখন ২০১৮ সালের পুরনো তোলাবাজি‑দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে ভিড়ের মানুষ টমেটো, ডিম এবং গোঁজার গোবর ছুঁড়ে ফেলে। চোখে রাগের শিখা নিয়ে চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে জায়গা জুড়ে গন্ধে ভরে ওঠে, আর দত্তের মুখে অশ্রু ও অবমাননার চিহ্ন দেখা যায়।
মামলাটির সূত্ৰপাত হয় ২০১৮ সালে, যখন কলকাতা মেট্রোরেল প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তদন্তে দেখা যায় দত্ত, যিনি বিধাননগর পুরসভা থেকে প্রাক্তন সিইও হিসেবে কাজ করতেন, কয়েকটি চুক্তিতে অনধিকারিক রিয়ায়ত পান এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করেন। এরপর ২০২২ সালে তার বাড়ি রাজারহাটে গিয়ে গ্রেফতার করা হয়, যা সমাজে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সাক্ষী এবং অভিযুক্তের দল দুজনেই আদালতে উপস্থিত থাকায় গাদাগাদি বাড়ে। ভিকটিমের পরিবার ও সমর্থকরা একে অপরের সঙ্গে মিক্সড সিগন্যাল দিয়ে গালি দেয়, আর নিরাপত্তা বাহিনীর তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দত্ত আদালতে বসে শান্তভাবে সাক্ষ্য দেন, তবে গলায় গলায় ছড়ানো টমেটো ও ডিমের গর্জে তার মনোবল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
রাজনীতিবিদ ও বিরোধী দলগুলো ঘটনাটিকে “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসাধারণের ক্রোধের প্রতিফলন” বলে মন্তব্য করে, একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে হিংসাত্মক আচরণ কেবল বিচারিক প্রক্রিয়াকে ক্ষয় করে না, বরং সমাজে অবিচারের বীজ বপন করে। তাই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
উল্লেখযোগ্য যে, দত্তের বিরুদ্ধে এখনও বিভিন্ন ধরণের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অভিযোগ রয়ে গিয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে দোষারোপের মাত্রা নির্ধারিত হবে। এসবের প্রেক্ষাপটে জনমতকে শান্ত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য, না হলে আদালতে পুনরায় এধরনের হিংসা এবং অবমাননা ঘটতে পারে।



