
২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই বারুইপুরে রক্তাক্ত ঘটনার সিরিজ, হিংসার শিকার ১৭ বছর বয়সী কিশোর
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মাত্র এক দিন পর ১৭ বছর বয়সী কিশোরের গৌণ গলা চিরে দেওয়া হয়। পুলিশের তৎক্ষণাত তদন্তে সন্দেহভাজী গ্রেফতার হলেও, হিংসার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনও অনিশ্চিত।
বারুইপুরে রক্তাক্ত হিংসার ধারাবাহিকতা একদিনের মধ্যে দু’গুণ বাড়ে। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের শকজনক খবর শোনার মাত্র ২৪ ঘন্টা পার হয়ে, দক্ষিণ ২৪ পার্গনার এই ছোট শহরে ১৭ বছর বয়সী কিশোরের গৌণ গলা চিরে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রানুযায়ী, যুবকটি গ্রাম্য ফুটবল মাঠে খেলতে গিয়ে হঠাৎই একদল অজানা লোকের আক্রমণে আহত হয় এবং মূলে গলে যায়।
পুলিশের মতে, অপরাধের সময় সন্ধ্যা ৭টায় কিশোরটি মাঠের পাশে অবস্থিত কুঁড়ে গাছের ছায়ায় চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু কেউই থামেনি। দ্রুতই তার মৃতদেহ মাঠের কেন্দ্রে পাওয়া যায়, রক্তের ছিটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ দৌড়ে এসে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করে, মৃতদেহের ছবি তোলা ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে।
ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ অফিসার ফারিদুল হক ফি.আর.এফ. আরোপ করে এবং একাধিক সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, হিংসার পেছনে গ্যাং-সংক্রান্ত বিরোধ অথবা অপরাধী দলের গৌণ রাগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তবে অফিসাররা স্পষ্ট কারণ জানাতে এখনও কাজ করে চলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনগুলো এই ধারাবাহিক রক্তপাতের গৃহীত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে দাবি তুলেছে। গ্রাম পরিষদ সভাপতি রমেশ চৌধুরী বলেন, “যুবকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সমাজ শান্তি পাবে না; আমরা পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।” একই সঙ্গে, পিতামাতা ও শিক্ষকরা শিশুদের খেলাধুলা ও মুক্ত সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসংহারে স্পষ্ট, বারুইপুরে হিংসার ধারাবাহিকতা কেবল একক ঘটনা নয়, বরং সামাজিক অবহেলা ও অপরাধমূলক গোষ্ঠীর সক্রিয়তা নির্দেশ করে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দায়িত্বশীল অপরাধীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন রক্তাক্ত ঘটনা আর না ঘটে।




