মুখ বদলে যৌন ব্যবসা! লখনউতে বিদেশি নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার উজবেক মহিলা
crime2 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

মুখ বদলে যৌন ব্যবসা! লখনউতে বিদেশি নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার উজবেক মহিলা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

লখনউতে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করে এক উজবেক মহিলাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পরিচয় লুকাতে প্লাস্টিক সার্জারি করে মহিলাদের মুখ বদলে যৌন ব্যবসায় নিযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের চাঞ্চল্যকর পর্দাফাঁস করল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের পুলিশ। দীর্ঘ পরিকল্পনা করে বিদেশি মহিলাদের পাচার করে সেখানে যৌন ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন উজবেকিস্তানের এক মহিলা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছিল এবং পুলিশের নজর এড়াতে তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিল।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, পাচার হওয়া মহিলাদের পরিচয় গোপন করতে এবং স্থানীয়দের চোখে ধুলো দিতে তাদের প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে চেহারার পরিবর্তন করা হতো। অর্থাৎ, মুখ বদলে দেওয়া হতো যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে। এরপরই তাদের শহরের বিভিন্ন গোপন ডেরায় রাখা হতো এবং জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় নিযুক্ত করা হতো। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল যাতে প্রশাসনের কানে খবর না পৌঁছায়।

খবর পাওয়ার পরপরই লখনউ পুলিশ নির্দিষ্ট কিছু ঠিকানায় অতর্কিতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানেই উজবেকিস্তানের ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। ধৃত মহিলার জবানবন্দিতে এই চক্রের আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে দেশের বাইরে আরও বড় কোনও সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে, যারা টাকার লোভে বা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশি মহিলাদের ভারতে নিয়ে আসছিল।

বর্তমানে ধৃত মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের জাল শুধু লখনউতে নয়, বরং উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে থাকতে পারে। অপরাধীদের ধরতে এবং এই পাচার চক্রের মূল মাথাকে খুঁজে বের করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

বিদেশি নাগরিক পাচার এবং আধুনিক চিকিৎসার অপব্যবহার করে অপরাধ চালানো এই ঘটনাটি বর্তমান সময়ে এক বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠোর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া এই ধরণের আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন করা কঠিন। তবে লখনউ পুলিশের এই সাফল্য পাচার চক্রের বাকি সদস্যদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX