
সরকারি লোগো লাগানো ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার, শান্তিপুরে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ
নদিয়ার শান্তিপুরে জাতীয় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় সরকারি লোগো লাগানো ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করল পুলিশ। রেশন চাল পাচারের চেষ্টার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, শুরু হয়েছে তদন্ত।
নদিয়ার শান্তিপুর এলাকায় সরকারি লোগো লাগানো বিপুল পরিমাণ চাল উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফুলিয়ার প্রফুল্লনগর এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় এই চালের বস্তাগুলি রাখা ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন কিছু বস্তা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে, যেগুলির গায়ে সরকারি লোগো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
প্রাথমিক অনুমান, এই চালগুলি রেশন দোকানের মাধ্যমে দুঃস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মাঝপথেই তা সরিয়ে নিয়ে এসে এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কালোবাজারির উদ্দেশ্যে এই চাল পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। জাতীয় সড়কের পাশে খোলা জায়গায় এই বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল কীভাবে এল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর প্রশ্ন জেগেছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধার করা চালগুলি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। চালের বস্তাগুলি কোন গুদাম থেকে এসেছে এবং কার নির্দেশে এখানে রাখা হয়েছিল, তা জানতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি রেশন ব্যবস্থায় কোনও রকম কারচুপি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। আপাতত পুরো এলাকাটিই নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে যাতে কোনও প্রমাণ নষ্ট না হয়।
এই ঘটনাটি আবারও সরকারি খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থায় ফাঁকফোকরের কথা মনে করিয়ে দিল। রেশন চালের কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের পর তবেই পরিষ্কার হবে এই চক্রের আসল মাথা কারা এবং এই কারসানির নেপথ্যে কার পরিকল্পনা ছিল।




