ডিম‑মাছ না দিয়ে রাজমা‑ডাল — মিড‑ডে মিলের নতুন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ
education5 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ডিম‑মাছ না দিয়ে রাজমা‑ডাল — মিড‑ডে মিলের নতুন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাজ্য সরকার মিড‑ডে মিলের খাবার ডিম‑মাছের বদলে রাজমা‑ডাল দিয়ে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকরা শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা রক্ষার দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন দায়ের করেছে।

রাজ্যের শিক্ষা বিভাগে হঠাৎ ঘোষিত সিদ্ধান্তে কলকাতা পুর এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে মিড‑ডে মিলে ডিম ও মাছের বদলে রাজমা‑ডাল পরিবেশন করা হবে, বলে শিক্ষকদের এক দলে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এই নীতির পেছনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজমা‑ডাল বেশি সাশ্রয়ী ও সরবরাহে সহজ, ফলে বাজেটের চাপ কমবে এবং সব শিশুতে সমান খাবার পৌঁছাবে। তবে শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকরা দাবি করছেন যে, প্রোটিনের মানে ডিম ও মাছের তুলনায় রাজমা‑ডাল কম, ফলে শিশুর বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে।

মিড‑ডে মিলের জন্য গৃহীত এই পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সামনে হাজির হয়েছে কলকাতা শিক্ষক সংস্থা ও কিছু পিতামাতার গোষ্ঠী। তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, সরকার প্রাক‑প্রশিক্ষণ না দিয়ে হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করলে শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং সরকারকে এই সিদ্ধান্তের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ডিম‑মাছের ব্যয় বাড়লেও, তা শিশুর স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে সঠিক বিনিয়োগ।

অধিকাংশ অভিভাবক ও শিক্ষকের মতে, মিড‑ডে মিলের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের বিকালভোজে পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা। যদি রাজমা‑ডালই একমাত্র বিকল্প হয়, তবে তা সঠিকভাবে প্রস্তুত না করলে পুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়বে। কিছু পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতামতেও দেখা যায় যে, ডিম ও মাছের তুলনায় রাজমা‑ডাল প্রোটিনের পরিমাণ কম, তবে ভিটামিন‑বি১২ ও ওমেগা‑৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ হবে না। তাই, সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত পুষ্টিকর উপাদান যোগ করা দরকার, না হলে সরকারী নীতি ব্যর্থ বলে বিবেচিত হতে পারে।

হাইকোর্টের বিচারক আজকের শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন যে, মিড‑ডে মিলের নীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হলে তা বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তিতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে হওয়া উচিত। যদি আদালত রাজ্যের সিদ্ধান্ত রদ করে, তবে সরকারকে দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিশুরা সুষম আহার পেতে পারে এবং বিদ্যালয়ের খাবার কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত, এই মামলাটি মিড‑ডে মিলের ভবিষ্যৎ গঠন ও শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX