
ঝটিতি উৎসবের আলোয় কলকাতা: ই‑স্যাময়ের নতুন উদ্যোগে সংস্কৃতি রঙিন
মিনিটই‑স্যাময়ের নতুন উদ্যোগ ‘ঝটিতি’ গত রবিবার হাওড়া পার্কে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নাট্য‑সংগীত, প্যানেল আলোচনা ও বই বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শহরের সংস্কৃতিকে রঙিন করে তুলেছে। বিশ্লিষ্ট সাহিত্যিক ও তরুণ শিল্পীরা একত্রে ভবিষ্যৎ বাংলা সংস্কৃতির দিশা নির্ধারণের সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছেন।
ঝটিতি, ই‑স্যাময়ের নতুন উদ্যোগ, গত রবিবার কলকাতা শহরের হাওড়া পার্কে মহোৎসবের আয়োজন করে। সন্ধ্যা পাঁচটায় টেকসই কাঠের মঞ্চে সূচনা হওয়া এই অনুষ্ঠানটি, শহরের পুরনো গলি‑মহলায় ছড়িয়ে থাকা শিল্পের সুরকে আধুনিক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়। ২,০০০েরও বেশি দর্শক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণ-তরুণী, শিল্পী ও লেখক সমবেত হয়ে উৎসবের প্রাণবন্ততা অনুভব করেন।
প্রথম দিনেই ‘ঝটিতি রাত্রি’ নামে একটি নাট্য‑সংগীত মঞ্চে স্থানীয় নাট্যকার রমেশ চৌধুরীর নাটক ‘মাটির গন্ধ’ এবং গীতিকার মধু শর্মার সৃষ্ট নতুন গানের একসাথে পরিবেশনা মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তদুপরি, ‘বইয়ের চূড়ান্ত’ নামে একটি প্যানেল আলোচনায় ই‑স্যাময়ের প্রধান সম্পাদক শ্রীধর রায় এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক নন্দিনী চক্রবর্তী আলোচনা করেন, কীভাবে ডিজিটাল যুগে বাংলা সাহিত্য পুনর্জীবিত হতে পারে।
উৎসবের মাঝামাঝি সময়ে স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা ‘বই-দাতা’ স্টল থেকে দরিদ্র বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বই বিতরণ করেন, যা দর্শকদের কাছ থেকে তালি ও উষ্ণ প্রশংসা পায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ই‑স্যাময় শুধু সাংস্কৃতিক সমাবেশই নয়, সামাজিক দায়িত্বেরও একটি মডেল স্থাপন করেছে।
বিশ্লেষক ও সংস্কৃতি সমালোচকরা মত প্রকাশ করেন, ঝটিতি একদিকে শহরের শিল্পমঞ্চকে নতুন দিক দিয়ে সমৃদ্ধ করছে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্পী ও লেখকদের জন্য একটি প্রশস্ত মঞ্চ তৈরি করছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘ঝটিতি কর্মশালা’ ও ‘ঝটিতি ফিল্ম ফেস্টিভাল’ শহরের সৃজনশীল উত্সাহকে আরও বর্ধিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যেহেতু কলকাতা সংস্কৃতির গর্বিত নগরী, ঝটিতি মত উদ্যোগ শহরের বৌদ্ধিক ও শিল্পী পরিমণ্ডলকে সজীব রাখে। ই‑স্যাময়ের এই সাহসী পদক্ষেপ, স্থানীয় শিল্পকে সমর্থন করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীলতার সেতু গড়ে তুলবে বলে স্পষ্ট হয়।



