
অন্তরালে কেষ্ট, অভিমানে বলছেন, ‘ভুলেছে দল’ – ই সময়
মিনিটপ্রাক্তন ইস্ট বেঙ্গল মিডফিল্ডার কেষ্ট অভিমানে বলছেন, “দল ভুলেছে আমার অবদান,” ই সময়ের সাক্ষাৎকারে। তিনি ক্লাবের নতুন নীতিতে পুরোনো নায়কদের অবহেলাকে সমালোচনা করে, ঐতিহ্যের সম্মান দাবি করছেন।
বহু বছর আগে কলকাতার ফুটবল ঘরানা গড়ে তুলতে যেসব নামের ওপর গৌরবের ঢেউ উঠেছে, তাদের মধ্যে এক ছিলেন প্রাক্তন ইস্ট বেঙ্গল মিডফিল্ডার কেষ্ট। আজো যখন তার নামের সাথে গড়ে ওঠা স্মৃতি‑স্মৃতির কথা শোনা যায়, তবু ক্লাবের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও নতুন খেলোয়াড়দের দৃষ্টিতে তার অবদান যেন পিছিয়ে পড়েছে। কেষ্টের এই অভিযোগ ই সময়ের এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, যেখানে তিনি অভিমানে বলছেন, “দল ভুলেছে আমার দিন‑রাতের পরিশ্রম, আমার নাম আর এখনই শূন্যে গিয়েছে।”
কেষ্টের ফুটবলে উজ্জ্বল দশকটি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত বিস্তৃত, যার মধ্যে তিনি দুইবার গৌরবময় লিগ শিরোপা জিতেছিলেন এবং বহু ম্যাচে দলকে বিজয়ের পথে চালিত করেছিলেন। তবে সময়ের ধারায় নতুন কোচ, নতুন খেলোয়াড় এবং নতুন স্টেডিয়াম গড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে তার অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি না দিয়ে ক্লাবের বয়ানায় তিনি বাদ পড়ে গেছেন। তার মতে, বর্তমান খেলোয়াড়রা তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ট্যাকটিক্যাল জ্ঞানকে উপেক্ষা করে, ফলে দলের মানসিকতা বদলে গেছে।
ক্লাবের মুখপাত্রের সাথে করা সাক্ষাতে বলা হয়েছে, “কেষ্টের অবদান আমরা কখনোই ভুলিনি। তবে বর্তমান দলকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলা জরুরি, তাই আমরা নতুন কোচিং স্টাফ ও তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বেশি জোর দিই।” তবু তিনি স্বীকার করেছেন, কেষ্টের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতামত শোনার গুরুত্ব আছে, কারণ তারা দলের ঐতিহ্য ও গঠনমূলক দিকগুলোতে মূল্যবান দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেষ্টের মত প্রবীণ কোচদের অবহেলা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দলীয় সংস্কৃতির ক্ষয় ঘটাতে পারে। যদি ক্লাবগুলো তাদের স্বর্ণযুগের নায়কদের সম্মান না করে, তবে নতুন খেলোয়াড়দেরও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই, কেষ্টের দাবি শুধুই ব্যক্তিগত রাগ নয়, বরং একটি বৃহত্তর কাঠামোগত সমস্যার সূচক।
অবশেষে, কেষ্টের এই কথাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কোনো দলের ইতিহাসে যেসব নাম গাঁথা হয়েছে, তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি ছাড়া দলটি সত্যিকারের এগিয়ে যেতে পারে না। ক্লাবের উচিত কেষ্টের মতো পুরোনো নায়কদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, যাতে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়া যায়।



