
** বড়াকপুরের বিধায়করা সরকারের কাছে জরুরি আবেদন; উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের দাবি
2 মিনিটবড়াকপুরের তিনজন বিধায়ক আজ সরকারের কাছে রেলওয়ে সংযোগ, স্বচ্ছ জল সরবরাহ এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তারা লিখিত পিটিশনের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান দাবি করে, না হলে গণপ্রদর্শনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
বড়াকপুর জেলায় আজ সকালের বৈঠকে তিনজন বিধায়ক—দ্বিতীয় তৃতীয় শাখার মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, ত্রিশী শৈল এবং রামকৃষ্ণ দত্ত—একত্রে হাওড়া-দিল্লি রেলওয়ে, জল সরবরাহ ও নগর পরিষেবা বিষয়ে সরকারকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আবেদন জানালেন। তারা জানিয়ে বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় অপর্যাপ্ত রেল সংযোগ, পানীয় জলের ঘাটতি এবং অপর্যাপ্ত সড়ক নেটওয়ার্কের কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বড়াকপুরের নাগরিকদের শিকায়াত শিকায়াত করে দেখা যায়, রেলওয়ে স্টেশন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে ভ্রমণকারীরা ভিন্ন ভিন্ন রুটে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি, শহরের পুরনো পাইপলাইন থেকে নিয়মিতভাবে লিকেজ ও দূষণ দেখা যায়, যা গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিধায়করা উল্লেখ করে, এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে শহরের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা তৈরি হবে।
সত্যিই, বড়াকপুরের অর্থনৈতিক সূচকগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থবিরতা দেখাচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের সংখ্যা কমে গিয়েছে, আর স্থানীয় ব্যবসা সমূহের বিক্রয় হ্রাস পাচ্ছে। বিধায়করা দাবি করছেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় ‘বড়াকপুর নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা’ অগ্রসর করা হোক, যাতে নতুন শিল্প পার্ক, আধুনিক রেলওয়ে সংযোগ এবং স্বচ্ছ জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
এই আলোচনার পর, বিধায়করা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা ও নগর পরিকল্পনা বিভাগকে একটি লিখিত পিটিশন জমা দিয়েছেন। তারা আশাবাদী যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সময়মত কাজ সম্পন্ন করা হবে। যদি এই দাবি দ্রুত পূরণ না হয়, তবে বিধায়করা জনমধ্যমে প্রতিবাদ ও গণভোটের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছেন।
সর্বোপরি, বড়াকপুরের বিধায়করা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দেরি হলে তাদের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও জনগণের স্বার্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে বড়াকপুরকে একটি সমৃদ্ধ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ নগরীতে রূপান্তর করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে। এভাবে, অঞ্চলটির উন্নয়ন কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকারও নিশ্চিত হবে।



