বিধানচন্দ্র রায়ের নামে নতুন পরিচয় পেল বিধাননগর হাসপাতাল, চিকিৎসক দিবসে তৃণমূলকে কটাক্ষ
স্বাস্থ্য10 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

বিধানচন্দ্র রায়ের নামে নতুন পরিচয় পেল বিধাননগর হাসপাতাল, চিকিৎসক দিবসে তৃণমূলকে কটাক্ষ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

চিকিৎসক দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধাননগর হাসপাতালকে বিধানচন্দ্র রায়ের নামে পুনঃনামকরণ করে নতুন স্বাস্থ্য নীতি ঘোষণা করেন। ত্রিপলায়ের সমালোচনায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের শ্বাসও উঠেছে।

জাতীয় চিকিৎসক দিবসের উপলক্ষে কলকাতা সিটি হলের ঘরে একটি উচ্চমাধ্যমিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন। অনুষদীয় চুক্তি অনুসারে নতুন স্বাস্থ্যবিধি চালু করা হবে, আর তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য অতিরিক্ত ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যনীতি ও হাসপাতাল পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা জানিয়ে, "সুস্থকরার মূল লক্ষ্য যদি না থাকে, তবে কোনই করা যায় না" বলে ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে, পুরনো "বিধাননগর হাসপাতাল"কে "বিধানচন্দ্র রায় হাসপাতাল" নামে পুনঃনামকরণ করা হবে। বিধানচন্দ্র রায়, যিনি ১৯৫০‑৬০ দশকে রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি গড়ে তোলার সময় বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন, তার নামে এই নতুন পরিচয়কে এক ধরনের সম্মাননা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের নতুন সাইনবোর্ডে রায়ের ছবি ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সন্নিবেশিত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপলায়ে কটাক্ষের স্বরে বললেন, "পূর্বতন সরকারের সময়ে হাসপাতালগুলো দেরি, দুর্বল সরঞ্জাম এবং অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছিল। এখন আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করছি।" ত্রিপলায়ের এই মন্তব্যের ওপর উপস্থিত রোগী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিছুজনের মতে, এই ধরনের তুলনা অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে দাঁড়ায়, অন্যদিকে কিছুজন আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন নামকরণে হাসপাতালের সেবার গুণগত মান বাড়বে।

বহু বছরের স্বাস্থ্য সেক্টরের ঘাটতি দূর করতে, মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করলেন, "প্রতিটি মহল্লায় ২৪ ঘন্টার চিকিৎসা সেবা, রক্তদানের কেন্দ্র এবং টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হবে।" তিনি যোগ করে বললেন, "বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্নকে সার্থক করতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।" এই ঘোষণার পর, ত্রিপলায়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর অফিসে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং পুরনো হাসপাতালের কর্মচারীদের কর্মসংস্থান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

উপসংহারে বলা যায়, বিধানচন্দ্র রায়ের নামে হাসপাতালের পুনঃনামকরণ শুধু একটি সম্মানই নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের সংকল্পের প্রতীক। ত্রিপলায়ের তীক্ষ্ণ মন্তব্যের পরেও, নতুন নীতি ও বাজেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিচ্ছেন। আশা করা যায়, এই পদক্ষেপগুলো রোগীর উপকারে আসবে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX