
‘ডেডজোনিং’ কী? নেটওয়ার্কহীন ভ্রমণেই মানসিক শান্তি খুঁজছে Gen Z
‘ডেডজোনিং’ মানে নেটওয়ার্কহীন ভ্রমণ, যা Gen Z-কে মানসিক শান্তি ও আত্ম-পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়। যদিও কিছু সমালোচনাও আছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য লাভজনক।
কলকাতার তরুণ-তরুণী গোষ্ঠীর মধ্যে “ডেডজোনিং” নামের একটি নতুন ছুটির ধারা গতি পেয়েছে। সামাজিক মিডিয়া, স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন আর ইন্টারনেট সংযোগ বাদ দিয়ে একদম নেটওয়ার্কহীন জায়গায় সময় কাটাতে চাওয়া এই প্রবণতা, শুধু পর্যটন নয়, মানসিক স্বস্তি ও আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃত হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষক অরিত্রি চন্দের মতে, “প্রতিদিনের ডিজিটাল চাপের ফলে মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে। Gen Z-র বেশিরভাগই এখন ছুটি মানেই গন্তব্যে ‘ডেডজোন’ তৈরি করে, যেখানে ফোন বন্ধ থাকে, যাতে নিজের ভাবনা ও অনুভূতি পুনর্গঠন করতে পারে।” এই ধারা শুধুমাত্র ভারতীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়; হিলস্টেশন, সিলেটের গ্রামাঞ্চল, কিংবা অজানা দ্বীপে গিয়ে তরুণরা নেটওয়ার্কহীন পরিবেশে নিজেকে রিচার্জ করছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রমেশ চৌধুরী জানান, “ডেডজোনিং তৎকালিক চাপ কমিয়ে, মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’কে সক্রিয় করে, যা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ কমাতে সহায়ক।” তাই, বেশ কিছু হোটেল ও রিসোর্ট এখনই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ প্যাকেজ চালু করেছে, যেখানে গেস্টদের ফোন ও ইনটেরনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে, এই প্রবণতা কিছুটা সমালোচনাও পেয়েছে। কিছু পিতামাতা ও শিক্ষাবিদদের মতে, অতিরিক্ত বিচ্ছিন্নতা সামাজিক দক্ষতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, ডেডজোনিংকে সুষমভাবে গ্রহণ করা, এবং প্রয়োজনীয় সময়ে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, নেটওয়ার্কহীন ভ্রমণ এখন Gen Z-র জন্য মানসিক শুদ্ধি ও আত্ম-অন্বেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে পরিণত হয়েছে। যদিও এটি কিছু চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত, সঠিক পরিকল্পনা ও পরামর্শে ডেডজোনিং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।




