আঙুলের গাঁট ফাটালে কি সত্যিই আর্থ্রাইটিস হয়? গবেষণার ফল প্রকাশ
স্বাস্থ্য6 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

আঙুলের গাঁট ফাটালে কি সত্যিই আর্থ্রাইটিস হয়? গবেষণার ফল প্রকাশ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

গাঁট ফাটালে আর্থ্রাইটিস হয় না—এটাই অরিত্রী চন্দের গবেষণার প্রধান ফল। তবে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আঙুলের গাঁট চেপে “পটপট” শব্দ করা ছোট বাচ্চা থেকে মধ্যবয়সী নাগরিকেরা প্রায়ই স্বস্তি বা মজার কাজ হিসেবে করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাসের ফলে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে কি, তা নিয়ে গুজব গুঞ্জন চলে আসা। কলকাতা ভিত্তিক গবেষক অরিত্রী চন্দের দল সম্প্রতি এক বিস্তৃত গবেষণা সম্পন্ন করে, যেখানে ১,২২৫ জনের অভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত গাঁট ফাটানো এবং আর্থ্রাইটিসের মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ পাওয়া যায়নি। যদিও কিছু অংশে গাঁটের সাঁই ভেঙে সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ক্ষতি বা মুঠোয় পেইন বাড়ার কোনো প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁট ফাটানো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাড়ের কাঠামোকে প্রভাবিত করে না; বরং অতিরিক্ত চাপ বা আঘাতই আর্থ্রাইটিসের মূল কারণ।

তবে গবেষণার ফলাফল সবকিছুই মুছে ফেলেনি। যদি গাঁট ফাটানোর সময় তীব্র ব্যথা বা ফোলা দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে গাঁটের সামান্য ক্ষতি মচকিয়ে ফেলতে পারে, যা পরে জয়েন্টে অস্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি করে। তাই স্বাভাবিক সীমার মধ্যে এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত বা জোরে করা এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়।

অরিত্রী চন্দের গবেষণার প্রধান উপসংহারটি স্পষ্ট: গাঁট ফাটানো আর্থ্রাইটিসের কারণ নয়, তবে স্বাস্থ্যের সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গি এবং সুষম আহার অপরিহার্য। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে জনগণ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX