গাড়িতে উঠলেই বমি বা মাথা ঘোরে? মোশন সিকনেস থেকে মুক্তির সহজ উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞরা
স্বাস্থ্য1 ঘণ্টা আগে২ মিনিট পড়ুন

গাড়িতে উঠলেই বমি বা মাথা ঘোরে? মোশন সিকনেস থেকে মুক্তির সহজ উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

গাড়িতে যাতায়াতের সময় অনেকেরই মাথা ঘোরা বা বমি ভাব হয়, যা মোশন সিকনেস নামে পরিচিত। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা হোক কিংবা শহরের দীর্ঘ যানজট—অনেকেরই গাড়িতে উঠলেই শুরু হয় অস্বস্তি। মাথা ঘোরা, গা গোলানো, ঠান্ডা ঘাম হওয়া কিংবা বমি বমি ভাব—এই সমস্যাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পরিচিত 'মোশন সিকনেস' (Motion Sickness) নামে। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রার সময় এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে, যা পুরো ভ্রমণের আনন্দ মাটি করে দেয়। কলকাতার অনেক মানুষই এই সমস্যায় ভোগেন, বিশেষ করে যখন তারা শহরের ট্রাফিক জ্যামে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোশন সিকনেস মূলত ঘটে যখন আমাদের মস্তিষ্ক শরীরের ভারসাম্য এবং চোখের দেখার মধ্যে অমিল খুঁজে পায়। উদাহরণস্বরূপ, গাড়িতে বসে থাকলে শরীর অনুভব করে যে সে গতিশীল, কিন্তু চোখ যদি গাড়ির ভেতরের কোনো স্থির বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকে, তবে মস্তিষ্কে সংকেতের সংঘাত তৈরি হয়। এর ফলে মাথা ঘোরা বা বমি ভাব শুরু হয়। এই সমস্যাটি শিশু এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় রয়েছে। যাত্রার সময় গাড়ির সামনের সিটে বসা সবচেয়ে কার্যকর, কারণ এতে বাইরের দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যায় এবং মস্তিষ্কের সংকেতগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। এছাড়া জানলা খুলে তাজা হাওয়া নেওয়া এবং দৃষ্টি দূরে কোনো স্থির দিগন্তের দিকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। যাত্রার মাঝে মাঝে আদা বা লেবুর টুকরো মুখে রাখলে বমি ভাব অনেকটাই কমে। পাশাপাশি, যাত্রার ঠিক আগে খুব বেশি ভারী বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

তবে যদি ঘরোয়া উপায়ে কাজ না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ নেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো ওষুধ সেবনের আগে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া যাত্রার সময় বই পড়া বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা একদমই উচিত নয়, কারণ এতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং শরীরকে শিথিল রাখা ভ্রমণের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে বলা যায়, সামান্য কিছু সতর্কতা এবং জীবনযাত্রার ছোটখাটো পরিবর্তন আনলে মোশন সিকনেসকে জয় করা সম্ভব। সঠিক প্রস্তুতি এবং সচেতনতা থাকলে দীর্ঘ যাত্রাও হয়ে উঠতে পারে আনন্দদায়ক। শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX