মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংয়ে বড় কাটছাঁট ভারতের, ওয়াশিংটনকে কড়া কূটনৈতিক বার্তা নয়াদিল্লির
international13 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংয়ে বড় কাটছাঁট ভারতের, ওয়াশিংটনকে কড়া কূটনৈতিক বার্তা নয়াদিল্লির

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের হোল্ডিং ৬০ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে ভারত। আরবিআই-এর এই কৌশলী পদক্ষেপকে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি এক কড়া কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ব্যবস্থাপনায় এক আমূল পরিবর্তন এনে মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজের হোল্ডিং এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে দিল ভারত। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ১৮ মাসে যেভাবে ভারত মার্কিন বন্ডের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে, তা কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ওয়াশিংটনের প্রতি এক স্পষ্ট কূটনৈতিক সংকেত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত কোনো দেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের ওঠানামার মুখে ভারত এখন বিকল্প পথে হাঁটছে। আরবিআই-এর এই কৌশলী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নিজস্ব মুদ্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মার্কিন ডলারের একাধিপত্যের ওপর নির্ভরতা কমানো। এর ফলে ভারতীয় অর্থনীতি এখন অনেক বেশি স্বনির্ভর এবং বহিঃস্থ চাপ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। ভারত এখন আর কেবল পশ্চিমী দুনিয়ার অর্থনৈতিক নিয়মের ওপর ভরসা করে থাকতে চায় না। গোল্ড রিজার্ভ বাড়ানো এবং অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত তার পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনছে। এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে ভারত যাতে খুব একটা প্রভাবিত না হয়, সেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, এই পদক্ষেপটি বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক মতপার্থক্যের মাঝে এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপটি অত্যন্ত কৌশলী। ভারত বুঝিয়ে দিল যে, অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্রে দেশটি এখন নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় টাকার মান স্থিতিশীল থাকবে এবং বৈশ্বিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে।

সামগ্রিকভাবে, মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিং কমানোর এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের পথে এক বড় পদক্ষেপ। রিজার্ভ ব্যাংকের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা ভবিষ্যতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন কী ব্যবস্থা নেয় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছায়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX