
মোদী সরকার চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে দিচ্ছে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ
ভারতের সরকার বাংলাদেশকে চুক্তি অনুসারে ২০০টি আধুনিক ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহের শুরুর কাজ করেছে। এই রেলকোচগুলো ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পাঠানো হবে, যা দু'দেশের রেল অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নয়াদিল্লি – ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সরকার আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশকে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহের কাজ শুরু করেছে। চুক্তি অনুযায়ী এই কোচগুলো ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে পাঠানো হবে। প্রথম কিস্তিতে ৫০টি রেলকোচ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের হাতে পৌঁছে গেছে, আর বাকি কোচগুলো প্রতি ছয় মাসে অন্তত ৫০টি করে সরবরাহ করা হবে।
বিডিএফ (বাংলাদেশ রেলওয়ে) এই কোচগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে। নতুন রেলকোচগুলোতে উন্নত সাসপেনশন, এয়ার-কন্ডিশনিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে, যা যাত্রীদের আরামদায়ক স্নান ও যাত্রা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, রেলকোচের অভ্যন্তরে উচ্চমানের সিট, জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ড্রাইভার কেবিনের আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
বহু বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন যে এই সরবরাহ ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের রেলওয়ে অবকাঠামোর উন্নয়নে নতুন দিক খুলে দেবে। রেলকোচের পরিমাণ বাড়িয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত পিক সময়ে ক্ষমতা বাড়াতে পারবে, ফলে ট্রেনের দেরি ও অতিরিক্ত ভিড় কমবে। একই সঙ্গে, এটি দুই দেশকে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সেতু হিসেবে কাজ করবে।
সরবরাহের শর্তাবলী অনুযায়ী, রেলকোচের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কাজের জন্য ভারতীয় টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দু'দেশের রেল কর্মীরা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ পেয়ে রেলকোচের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রেল সেবা মানকে উন্নত করবে।
উপসংহারে বলা যায়, মোদী সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল দক্ষিণ এশিয়ার রেল নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়ন করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করা। ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচের এই সরবরাহ উভয় দেশের রেল সংস্থার জন্যই গৌরবের বিষয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পের ভিত্তি গড়ে তুলবে।




