সেনাশ্রমে বড়সড় রদবদল চিনে, সরিয়ে দেওয়া হল দুই শীর্ষ জেনারেলকে
international19 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

সেনাশ্রমে বড়সড় রদবদল চিনে, সরিয়ে দেওয়া হল দুই শীর্ষ জেনারেলকে

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

চিনের সর্বোচ্চ সামরিক কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দুই শীর্ষ জেনারেলকে। দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলীয় নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে বেজিংয়ের এই কঠোর পদক্ষেপ।

বেজিংয়ের সামরিক মহলে ফের শুরু হয়েছে বড়সড় শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া। চিনের সর্বোচ্চ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা 'সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন' থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দুই শীর্ষ জেনারেলকে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর নজরদারির মধ্যেই এই রদবদল কার্যকর করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি দমন এবং দলীয় আনুগত্য নিশ্চিত করতেই এই শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার শীর্ষ স্তরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিল বেজিং।

এই রদবদল কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শি জিনপিংয়ের সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কোনো ভিন্নমত বা বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা যাতে মাথাচাড়া না দেয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। এর আগে একইভাবে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনাকর্তাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে চিনের অভ্যন্তরীণ সামরিক অস্থিরতা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সামরিক নেতৃত্বের এই ঘন ঘন পরিবর্তন যুদ্ধের প্রস্তুতি বা কৌশলগত পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সামগ্রিকভাবে, চিনের এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, কমিউনিস্ট পার্টি সামরিক বাহিনীর ওপর সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হলেও, এর পেছনে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উদ্দেশ্যই প্রধান। আগামী দিনে আরও বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদত্যাগ বা অপসারণ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX