
ভারতের নতুন ‘ব্রহ্মস’ মিসাইল— ১,৫০০ কিমি পাল্লায় চীন‑পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি নিশানা
ব্রহ্মস মিসাইলের নতুন সংস্করণ ১,৫০০ কিমি পরিসীমা নিয়ে চীন‑পাকিস্তানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ভারতকে শক্তিশালী করবে। উৎপাদন কাজ ইতিমধ্যে এগোচ্ছে এবং দুই বছর মধ্যে সেবায় আসবে বলে আশা।
ব্রহ্মস, যা বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক মিসাইল, এখন ১,৫০০ কিলোমিটার পরিসীমা সহ নতুন সংস্করণে রূপ নেবে বলে সরকার ঘোষণা করেছে। এই মিসাইলের মূল লক্ষ্য হল পূর্ব লাদাখ থেকে ভারত মহাসাগরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনকে নিরুৎসাহিত করা এবং পাকিস্তানের প্রক্সি যুদ্ধ নস্যাৎ করার সক্ষমতা অর্জন করা। নেভি ও এয়ার ফোর্স দু'ইই এই অস্ত্রের উৎপাদন ও মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে সমুদ্র ও আকাশ দু'ই দিক থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
পূর্বের সংস্করণে ৩৫০ কিমি দূরত্বে পৌঁছানোর ক্ষমতা ছিল, তবে নতুন রূপে ১,৫০০ কিমি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারবে, যা ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ দেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মিসাইলের সুপারসনিক গতি (ম্যাক্স ২.৯ মাইল প্রতি সেকেন্ড) চীনের ‘যান্ত্রিক ঘোড়া’ এবং পাকিস্তানের গোপন অস্ত্র সরবরাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ব্রহ্মসের উৎপাদন পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ভারতের ডিফেন্স প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটিতে চালু হয়েছে। রেডিমেড মডেলগুলো আগামী দুই বছর মধ্যে প্রথমবার সেবা শুরু করবে বলে সূত্র পাওয়া যায়। সরকারও ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে এই মিসাইল রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালু করেছে, যাতে ভারতের রক্ষা শিল্পে আয় বাড়ে।
মিসাইলের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার প্রযুক্তি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। তবে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরণের সুপারসনিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবুও, ভারত সরকার নিশ্চিত করেছে যে, ব্রহ্মসের ব্যবহার কেবলমাত্র রক্ষা ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে হবে, আক্রমণাত্মক নয়।
সারসংক্ষেপে, ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণ ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে, চীন‑পাকিস্তান সম্পর্কের জটিলতা মোকাবিলায় একটি কার্যকর হাতিয়ার সরবরাহ করবে এবং দেশীয় শিল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াবে। নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপকে সঠিক দিকেই গৃহীত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা একমত।




