
ভারতের নিজস্ব ‘কুশা’ SAM‑এর প্রথম সফল পরীক্ষা, ড্রোন‑থেকে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত সবকিছু ধ্বংসের ক্ষমতা
DRDO ‘কুশা’ SAM‑এর প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যা ড্রোন‑থেকে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত সবধরনের আকাশযান ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে। এই মিসাইলের স্বনির্ভরতা দেশের রক্ষা শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) আজ দুপুরে হিদ্রাবাদে অনুষ্ঠিত ‘কুশা’ সারফেস‑টু‑এয়ার (SAM) মিসাইলের প্রথম সফল পরীক্ষা ঘোষণা করেছে। টেস্ট রেঞ্জের ওপর থেকে উৎক্ষেপণ করা মিসাইলটি, উচ্চ গতিতে উড্ডয়ন করে, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত করে ধ্বংসের মুহূর্তে পৌঁছেছে। এই মিসাইলটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য, ফলে শত্রু বিমান, ড্রোন, স্বল্প পালাটে যুদ্ধবিমানসহ বহুমুখী লক্ষ্যবস্তু নিঃশব্দে ধ্বংস করতে সক্ষম।
‘কুশা’ মিসাইলের গঠন ও বৈশিষ্ট্যকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জে কাজ করতে পারবে এবং ৩,০০০ মিটার উচ্চতায় উড়ে লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। মিসাইলের গাইডেন্স সিস্টেমে উন্নত রাডার ও ইন্টারফেরেন্স-প্রতিরোধী প্রযুক্তি যুক্ত, যা শত্রু জ্যামিংয়ের মুখেও সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। এছাড়া, মিসাইলের গতি ১২০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা অতিক্রম করে, ফলে শত্রু বিমান পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
এই সাফল্য দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণ রক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বে ভারতের বেশিরভাগ SAM আমদানি করা হতো, তবে ‘কুশা’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে মিসাইল তৈরি করে, রপ্তানি সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই মিসাইলকে নৌবাহিনীর তলবাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত করে, সমুদ্র থেকে আকাশে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ক্ষমতাও যোগ করা যেতে পারে।
ড্রোনের দ্রুত বৃদ্ধি ও সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, ‘কুশা’ মিসাইলের কার্যকরীতা ভারতের নিকট ভবিষ্যতে আকাশ রক্ষার জন্য নতুন রূপ দেবে। সরকার ইতিমধ্যে এই মিসাইলের সিরিজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন করেছে এবং উৎপাদন লাইন গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের রক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা প্রমাণিত হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, ‘কুশা’ SAM প্রকল্পের সফল পরীক্ষা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই মিসাইলের সিরিজের বাণিজ্যিকীকরণ ও রপ্তানি সম্ভবনা দেশের রপ্তানি আয় বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক রক্ষা বাজারে ভারতের অবস্থানকে দৃঢ় করবে।




