সমুদ্রে ভারতের আধিপত্য! নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে ২০০টিরও বেশি নতুন যুদ্ধজাহাজ
national12 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

সমুদ্রে ভারতের আধিপত্য! নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে ২০০টিরও বেশি নতুন যুদ্ধজাহাজ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ভারতীয় নৌবাহিনী ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করে সমুদ্রনিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। এই পদক্ষেপ দেশীয় প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে গড়ে তুলবে।

বদলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ ও সমুদ্র নিরাপত্তার বাড়তে থাকা হুমকির মুখে ভারতীয় নৌবাহিনী তার ক্ষমতা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা পেশ করেছে। ভারতের রক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে ২০৩৫ সালের মধ্যে নৌবাহিনী মোট ২০০টিরও বেশি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ গ্রহণ করবে, যার মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হিল-ইন-সিল, সাবমেরিন ও বিমানভিত্তিক শিকারের জাহাজ অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য সমুদ্রসীমা রক্ষা করা এবং চীনের বাড়তে থাকা নৌ-সামরিক উপস্থিতির মোকাবিলা করা।

নতুন জাহাজগুলোর বেশিরভাগই দেশীয় প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে। ডি-ইন্ডিভিজুয়াল ক্যারিয়ার (ডিক) প্রকল্পের অধীনে শীঘ্রই নির্মাণে আসা গ্লি-ডি-ডি মডেলগুলোকে আধুনিক রডার ও রাডার সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত করা হবে, যা শত্রু জাহাজের সনাক্তকরণ ও ন্যাভিগেশনকে আরও নির্ভুল করে তুলবে। তাছাড়া, সাবমেরিনের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে এবং বৈদ্যুতিক-হাইড্রোজেন হাইব্রিড ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ানো হবে, ফলে জ্বালানি খরচ কমে পরিবেশগত দায়িত্বও পূরণ হবে।

এই বিশাল সম্প্রসারণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বাজেট অনুমোদন করেছে এবং শিপইয়ার্ডগুলোর আধুনিকীকরণে ত্বরান্বিত করেছে। রেলওয়ে ও রোড নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজের সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজতর করা হবে। পাশাপাশি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বৃদ্ধি ও বিদেশি নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালু করা হয়েছে, যাতে সমুদ্রযুদ্ধে নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল দ্রুত শিখে নেওয়া যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ভারতকে শুধু সমুদ্রশক্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌ-দলিলেও একটি প্রধান খেলোয়াড়ের অবস্থান দেবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে, এ ধরনের বিশাল ব্যয় ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে নীতিনির্ধারকদের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, যাতে প্রকল্প সময়মতো শেষ হয় এবং আর্থিক দিক থেকে অতিরিক্ত চাপ না সৃষ্টি হয়।

উপসংহারে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা ভারতের সমুদ্রসীমা দৃঢ় করতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো বাস্তবায়নই হবে এই বিশাল স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার চাবিকাঠি।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX