ড্রোন শিকারের নতুন জাল—হেলিকপ্টার জুড়ে হবে এআই রাডার ও মাইক্রো‑মিসাইল
national8 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ড্রোন শিকারের নতুন জাল—হেলিকপ্টার জুড়ে হবে এআই রাডার ও মাইক্রো‑মিসাইল

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ড্রোন ও ‘লোইটারিং মিউনিশন’ এর হুমকির মোকাবেলায় ভারতীয় বিমানবাহিনী হেলিকপ্টারকে এআই রাডার ও মাইক্রো‑মিসাইল দিয়ে সজ্জিত করে আকাশপথে ড্রোন‑প্রতিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার প্রস্তুতি নেয়।

ড্রোন ও ‘লোইটারিং মিউনিশন’ (loitering munitions) এর হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) হেলিকপ্টারকে আকাশপথে ড্রোন‑প্রতিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার কাজ শুরু করেছে। সূত্রগুলো জানায়, হেলিকপ্টারগুলোতে উচ্চগতির এআই‑ভিত্তিক রাডার, স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য সনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র মাইক্রো‑মিসাইলের সমন্বয় করা হবে, যাতে শত্রুর ড্রোনকে দূর থেকে ধ্বংস করা যায়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনীর মোবিলিটি বজায় রেখে শত্রু ড্রোনের আক্রমণকে তৎক্ষণাৎ প্রতিহত করা।

প্রথম পর্যায়ে, এয়ারফোর্সের বিদ্যমান মিরেজ‑2000 এবং হেলিকপ্টার‑আলহাব (ALH) হেডকোয়াটারের সঙ্গে যুক্ত হেলিকপ্টারগুলোকে রূপান্তর করা হবে। রাডার সিস্টেমটি ৩৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ড্রোনকে সনাক্ত করতে সক্ষম এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে লক্ষ্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাক করে মিসাইলের লঞ্চ নির্দেশনা দেয়। মাইক্রো‑মিসাইলগুলো হালকা ওজনের, তাই হেলিকপ্টারের গতি ও চঞ্চলতা বজায় রেখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন‑শিকারের এই ধরনের প্রযুক্তি গৃহযুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে। পূর্বে যেসব মিশন কেবল স্থলবায়ু বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেগুলো এখন আকাশে হেলিকপ্টার থেকে সরাসরি মোকাবেলা করা যাবে। ফলে শত্রুর ‘লোইটারিং মিউনিশন’ যা দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্যবস্তুতে ঝুঁকে থাকে, সেগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাবে। এছাড়া, হেলিকপ্টারকে ড্রোন‑প্রতিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করলে ত্রিপাক্ষিক যুদ্ধের জটিলতা কমে, কারণ লক্ষ্যবস্তু নির্ণয় ও ধ্বংসের সময় কমে যায়।

ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) ইতিমধ্যে এই সিস্টেমের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে এবং পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে সফল ফলাফল দেখেছে। এখন পর্যন্ত, হেলিকপ্টার‑এআই রাডার ও মাইক্রো‑মিসাইলের সংযোজনের ব্যয় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা অনুমান করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশীয় নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকার এই প্রকল্পকে ‘Make in India’ ধারার অংশ হিসেবে গুরত্ব দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে রপ্তানি সম্ভাবনাও উন্মোচিত হয়।

সামগ্রিকভাবে, ড্রোন শিকারের জন্য হেলিকপ্টারকে আধুনিক রাডার ও মাইক্রো‑মিসাইল দিয়ে সজ্জিত করা ভারতীয় বিমানবাহিনীর কৌশলগত ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আকাশে শত্রুর হুমকিকে ত্বরিত ও কার্যকরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX