এয়ার ইন্ডিয়া টার্বুলেন্স কাণ্ডে বড় মোড়: পাইলটের ডোপ টেস্ট পজিটিভ, তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ
national1 দিন আগে২ মিনিট পড়ুন

এয়ার ইন্ডিয়া টার্বুলেন্স কাণ্ডে বড় মোড়: পাইলটের ডোপ টেস্ট পজিটিভ, তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ভয়াবহ টার্বুলেন্সের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ওই বিমানের পাইলটের ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ টার্বুলেন্স কাণ্ডে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গিয়েছে, ওই বিমানের পাইলটের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওড়িশার আকাশসীমায় উড়ানের সময় হঠাৎ একটি এয়ার পকেটে পড়ে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি কি কেবল প্রাকৃতিক কারণে হয়েছিল, নাকি পাইলটের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রভাব সেখানে ছিল?

ঘটনার দিন বিমানটি যখন ওড়িশার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন আচমকাই তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের দাবি, মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি এতটাই নিচে নেমে গিয়েছিল যে অনেকেরই মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে। কেবিন ক্রু এবং পাইলট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিমানটি শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে নিরাপদ অবতরণ করলেও, এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত।

বিমান কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট উড়ান নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় যখন অভিযোগ পৌঁছায়, তখন পাইলটের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানেই ধরা পড়ে তাঁর রক্তে নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি। নিয়ম অনুযায়ী, একজন পাইলটের জন্য সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং সুস্থ থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ সামান্য অসতর্কতা কয়েকশো যাত্রীর জীবন বিপন্ন করতে পারে। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ ওই পাইলটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ডিজিসিএ (DGCA) এবং এয়ার ইন্ডিয়ার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে যে, মাদক গ্রহণের ফলে পাইলটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা রিফ্লেক্স কমে গিয়েছিল কি না, যা বিমানটিকে এয়ার পকেটে পড়ার পর সামাল দিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলো যদি কর্মীদের স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি না চালায়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। আপাতত ওই পাইলটের সাসপেনশন এবং বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বিমান বিশেষজ্ঞরা।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX