
মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের ওপর দুর্নীতি অভিযোগ, গ্রামবাসীর হাতে তুলে দিল পুলিশ
মিনিটমুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রামচন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগে গ্রামবাসী সরাসরি পুলিশের হাতে তাকে তুলে দিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্যামল ফাইল করে তদন্ত শুরু করেছে, যা পঞ্চায়েতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুর্শিদাবাদের শিবসবুজে অবস্থিত খড়গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শ্রী রামচন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর তীব্র অভিযোগে পুলিশকে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা সন্ধ্যা দশটায় একত্রিত হয়ে দত্তকে গোপন নগদ লেনদেন এবং তহবিলের অপব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে নগদ টাকা ও নথিপত্র হাতে নিয়ে পুলিশের হেলিকপোর্টে পৌঁছায়।
অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পঞ্চায়েতের উন্নয়ন তহবিল থেকে স্বল্পমূল্যের সরবরাহের জন্য কাঁচামাল ক্রয় ও সড়ক নির্মাণের কাজের খরচ বাড়িয়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রকল্পে অতিরিক্ত টাকা যোগ করা। পাশাপাশি দত্তের নামের সাথে জড়িত দু’টি জমি অযথা পঞ্চায়েতের গৃহসেবা প্রকল্পে যুক্ত করে নিজের পরিবারকে স্বল্পমেয়াদে লাভবান করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
গ্রামবাসীর ভয় ছিল যে স্থানীয় রাজনৈতিক দলে দত্তের প্রভাবের কারণে অভিযোগ নথিভুক্ত না হলে ন্যায়বিচার মিলবে না, তাই তারা সরাসরি পুলিশের হাতে দত্তকে তুলে দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানায়। এদিকে পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কিছু লোকের কাছেও একই রকম অভিযোগ উঠেছে, যা পুরো পঞ্চায়েতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশের জানামতে, দত্তের বিরুদ্ধে প্রথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে শ্যামল ফাইল করা হয়েছে এবং অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা দলকে গ্রাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পঞ্চায়েতের আর্থিক হিসাবের পূর্ণ পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অযথা লেনদেন রোধ করা যায়।
এই ঘটনা কলিকাতার স্থানীয় রাজনীতি এবং গ্রাম স্তরের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গ্রামবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি মোকাবিলায় একটি মডেল গড়ে উঠতে পারে, যা অন্যান্য গ্রামেও অনুকরণীয় হতে পারে।



