
এ বার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জেল নির্মাণের অনুমোদন
মিনিটব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জেল নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে সরকার ও সংরক্ষণবাদীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক স্থান রক্ষা করা এবং অপরাধবোধের প্রয়োজন পূরণ করা দুটোই একসাথে করা সম্ভব কি, তা এখনই প্রশ্নের মুখে।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জেল বানানোর সিদ্ধান্ত কলকাতার রাজ্য সরকার আজ অফিসিয়ালভাবে জানিয়ে দিল। দীর্ঘদিন ধরে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডকে অপরাধবোধের দায়িত্বে ভোগাতে চাইছে সরকার, কারণ বন্দি ঘরের ঘাটতি বাড়তে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে গৃহীত এই প্রকল্পে ১,৫০০ জেল কোষ এবং আধুনিক রিসার্কুলেশন সিস্টেম স্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের সূত্রে বলা হয়েছে, নতুন জেল নির্মাণের মাধ্যমে পুরনো জেলখানার অতিরিক্ত ভিড় কমবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা বাড়বে। তবে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে আগ্রহী সংরক্ষণবাদীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তারা দাবি করে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের স্থাপত্যিক গঠন ও ঐতিহাসিক মানে অতুলনীয়, তাই সেখানেই সৃজনশীল পাবলিক স্পেস বা পার্কের সুযোগ দেওয়া উচিৎ, জেল নয়।
বিতর্কের মধ্যে, শহরের পরিকল্পনা বিভাগ ও আইনসভা দুজনেই এই প্রকল্পের আইনি এবং পরিবেশগত দিকগুলো পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। যদি জেল নির্মাণ হয়, তবে তা সম্পূর্ণভাবে আধুনিক নিরাপত্তা মান অনুসারে হবে এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের রিকোয়েস্ট অনুযায়ী সঠিক সাউন্ডপ্রুফিং ব্যবস্থা করা হবে। শেষ পর্যন্ত, সরকার ও সংরক্ষণবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে, শহরের ঐতিহ্য ও জননিরাপত্তার সমন্বয় সাধন করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উপসংহারে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জেল নির্মাণের পরিকল্পনা কলকাতার নগর উন্নয়ন ও অপরাধ মোকাবিলার নতুন দিক উন্মোচন করছে, তবে ঐতিহাসিক সাইট সংরক্ষণের দায়িত্বও ততটুকু গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দিকের যুক্তি বিবেচনা করে, সঠিক সমাধান বের করা জরুরি, যাতে শহরের সাংস্কৃতিক ধন রক্ষা পায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।



