অভিষেকের পর এবার নিশানায় আপ্তসহায়ক সুমিত, শ্রীরামপুর থেকে কালীঘাট তল্লাশি চালাল পুলিশ
রাজনীতিএইমাত্র২ মিনিট পড়ুন

অভিষেকের পর এবার নিশানায় আপ্তসহায়ক সুমিত, শ্রীরামপুর থেকে কালীঘাট তল্লাশি চালাল পুলিশ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ের খোঁজে শ্রীরামপুর ও কালীঘাটে তল্লাশি চালাল শালবনি থানার পুলিশ। নিখোঁজ সুমিতকে খুঁজে বের করতে তদন্তকারী দলের তৎপরতা বাড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এবার বড়সড় রদবদল বা টানাপোড়েনের ইঙ্গিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সুমিতের খোঁজ পেতে ইতিমধ্যেই কলকাতার কালীঘাট এলাকা থেকে শুরু করে হুগলির শ্রীরামপুর পর্যন্ত হানা দিয়েছে তদন্তকারী দল। রাজনৈতিক মহলে এই তল্লাশি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি নির্দিষ্ট অভিযোগকে কেন্দ্র করে, যার তদন্ত করতে গিয়ে সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে তাঁর সম্ভাব্য আস্তানা এবং পরিচিতদের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। বিশেষত, কালীঘাটের অভিষেকের বাসভবনের আশেপাশে এবং শ্রীরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, যেখানে সুমিতের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের এমন পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত পিএ-র ভূমিকা থাকে নেতার দৈনন্দিন কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সমন্বয় করা। এই পরিস্থিতিতে সুমিত রায়ের নিখোঁজ হওয়া এবং পুলিশের তল্লাশি অভিযান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন কোনো প্রশ্নের জন্ম দিল কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে শ্রীরামপুরে পুলিশের হানা এবং তল্লাশির তীব্রতা দেখে মনে করা হচ্ছে, পুলিশ কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের খোঁজে রয়েছে। সুমিত রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই রহস্যের জট খুলবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। আপাতত তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতিতে বিভিন্ন মামলা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, তখন অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের এই তৎপরতা যথেষ্ট চমকপ্রদ। এখন দেখার, পুলিশ সুমিত রায়কে ধরতে পারে কি না এবং এই তল্লাশির শেষ পরিণতি কী হয়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX