
কালীশান ব্যানার্জি সায়নী ঘোষের তীব্র সমালোচনা: “অগ্নিমিত্রার কাছে হেরেছিল, মমতা না থাকলে ওকে কে চিনত?”
কালীশান ব্যানার্জি সায়নী ঘোষের ‘সুবিধাবাদী’ মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের তীব্রতা তুলে ধরেছেন। তিনি মমতার প্রভাব ও পার্টির ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
কলকাতার তৃণমূল পার্টিতে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে বিশ্লেষক কালীশান ব্যানার্জি রেডিওতে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় নীতি ও নেতৃত্বকে “সন্তানের মতো” প্রশংসা করে, বর্তমান রাজনৈতিক চাপের মুখে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে, সদ্য ‘দলত্যাগী’ সায়নী ঘোষকে তিনি “সুবিধাবাদী” বলে তীব্র আক্রমণ করেন এবং তাকে “অগ্নিমিত্রার কাছে হেরেছিল” বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে সায়নীকে সত্যিকারের কেউ চিনবে না।
ব্যানার্জি উল্লেখ করেন, সায়নী ঘোষের এই পদত্যাগের পেছনে পার্টির নীতি‑নির্ধারক গোষ্ঠীর ভেতরে ক্ষমতার লড়াই ও ব্যক্তিগত স্বার্থের টানাপোড়েন রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, “যদি মমতা না থাকতেন, তবেই সায়নীকে এত সহজে বাদ দেয়া হতো না”, যা পার্টির ভিতরে মমতার প্রভাবকে প্রকাশ করে। এদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নরম সুর বজায় রেখে তিনি তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দেন।
ব্যানার্জি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সমাধানে “একতা ও সমন্বয়”ের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা পার্টি ও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ না করি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।” এ মন্তব্যের পর পার্টির অন্যান্য নেতারাও তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করেন।
উপসংহারে বলা যায়, কালীশান ব্যানার্জির এই বিবৃতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ জটিলতাকে উন্মোচন করেছে এবং পার্টির ভবিষ্যৎ নীতি‑নির্ধারক গঠনে একতাবদ্ধতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা পুনরায় জোর দিয়েছে। পার্টির অভ্যন্তরে যদি সমন্বয় না হয়, তবে সায়নী ঘোষের মতো ‘দলত্যাগী’দের সংখ্যা বাড়তে পারে, যা তৃণমূলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।




