কৌশলগত অংশীদার না অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী! আমেরিকার কাছে নয়া চ্যালেঞ্জ মোদীর ভারত
রাজনীতি7 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

কৌশলগত অংশীদার না অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী! আমেরিকার কাছে নয়া চ্যালেঞ্জ মোদীর ভারত

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেল্লানি উল্লেখ করেছেন, এখনই ভারতকে কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। এই নতুন অবস্থান মোদীর সরকারকে কূটনৈতিক ও শিল্পক্ষেত্রের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।

নয়াদিল্লি‑ওয়াশিংটন সম্পর্কের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কৌশলগত বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেল্লানি জানিয়েছেন, আর এখনই যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কেবল কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছে। চেল্লানির মতে, এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তন, চীনের বর্ধিত প্রভাব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন হয়েছে।

এতে মোদীর সরকারকে নতুন কূটনৈতিক কৌশল গড়ে তোলার দরকার। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে “বিশ্বস্ত অংশীদার” বলা হতো, কিন্তু এখন আমেরিকান নীতি শিলারূপে ভারতের উচ্চ‑প্রযুক্তি শিল্পে প্রবেশের সীমা আরোপের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে দু’দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনে শুল্ক‑সাম্যতা, সাইবার নিরাপত্তা ও সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার দরকার।

বহু বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তন মডির “বিবেক‑সাম্রাজ্য” নীতির প্রতি এক ধরনের পরীক্ষা হতে পারে। যদি ভারত সঠিকভাবে কূটনৈতিক সমঝোতা করে, তবে সে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকা বাদ দিয়ে আবারও অংশীদারিত্বের সোপান বেয়ে উঠতে পারে। তবে এ জন্য দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা, গবেষণা‑উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি ভারতকে উচ্চ‑মূল্যের পণ্য রপ্তানি করতে বাধা দিতে পারে, যা দেশের রপ্তানি‑ব্যালান্সে চাপ সৃষ্টি করবে। তাই ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের দ্রুত “বিকল্প বাজার” অনুসন্ধান, এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে “মেক ইন ইন্ডিয়া” পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি পরিবর্তন মোদীর সরকারের জন্য এক বড় পরীক্ষার মতো। কূটনৈতিক সমঝোতা, শিল্পের প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তিনটি স্তম্ভে ভারসাম্য রক্ষা করলে ভারত আবারও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ফিরে আসতে পারে। নতুবা, অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছায়া দীর্ঘকাল ধরে দেশের বিকাশের পথে বাধা হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX