
সংসদে ঢুকতেই ধর্মেন্দ্রকে চোর স্লোগান! পাল্টা অভ্যর্থনা বিজেপির
সংসদ সেশনের শুরুতে বিরোধীরা “শিক্ষা চোরি” স্লোগানে ধর্মেন্দ্রকে চোরেরূপে চিত্রিত করলেও, বিজেপি এমপিরা “ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ” চিৎকারে পাল্টা অভ্যর্থনা জানায়। এই তীব্র সংলাপ নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিশ্লেষিত হয়েছে।
সোমবার সকালেই রাজধানীর সংসদ চত্বরে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখা গেল। নতুন সেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী দলগুলোর সমর্থকরা “শিক্ষা চোরি” স্লোগানে তোলপাড় করছিলেন, যা সরাসরি চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টির সূত্রপাত করল। স্লোগানটি যখন গুঞ্জরিত হল, তখনই পার্লামেন্টের সামনের দিকের পার্কিং এলাকায় ভিড় জমে গেল।
বিরোধীর দলগুলো দাবি করছিল যে ধর্মেন্দ্রের সাথে যুক্ত কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী শিক্ষা নীতি নিয়ে “চোরি” করার পরিকল্পনা করছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তাদের চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়াতে দ্রুতই ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তবে এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা দ্রুতই সক্রিয় হয়ে ওঠে, যাতে কোনো অশান্তি না দেখা যায়।
বিপক্ষের এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি এমপিরা একসাথে “ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ” স্লোগান গেয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করল। তাদের চিৎকারে তৎক্ষণাৎ উপস্থিতি দেখিয়ে, ধর্মেন্দ্রের সমর্থকরা হাততালি দিয়ে উল্লাস করল এবং পার্লামেন্টের ভিতরে একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি হলো। এই পাল্টা অভ্যর্থনা দেখায় যে সংস্কৃতি ও রাজনীতি একে অপরকে কতটা প্রভাবিত করে।
বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন যে, অল্প সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের এই তীব্র সংলাপ নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। আসন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গড়ে তুলতে প্রতিটি দল কৌশলগতভাবে এই ধরনের জনসাধারণের মঞ্চ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ধর্মেন্দ্রের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে সমর্থন জোগাড় করা, রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য একটি কার্যকরী পদ্ধতি হয়ে উঠেছে।
সারসংক্ষেপে, সংসদে ধর্মেন্দ্রের নাম নিয়ে উন্মত্ত স্লোগান-প্রতিবাদ এবং তাৎক্ষণিক বিপরীত সাড়া রাজনীতির জটিল গতি-প্রকৃতিকে আবারও প্রকাশ করে। এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, সাংসদীয় মঞ্চে ব্যক্তিগত পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কতটা সহজ, এবং এর ফলে সমাজে উভয়ই উত্তেজনা ও সমর্থন দুটোই বাড়ছে।




