
ইউনেস্কোর স্বীকৃতির নামে দুর্গাপুজোর ‘টিকিট বিক্রি’, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মিনিটইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে গর্বিত দুর্গাপুজোর আয়োজনে টিকিট বিক্রি নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তদন্তে লুকায়িত আর্থিক লেনদেনের সত্য প্রকাশের আশায় আইনগত পদক্ষেপের কথা।
দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো “Intangible Cultural Heritage of Humanity” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এক গর্বের মুহূর্তের পরেও, এই পবিত্র উৎসবের আয়োজনে টিকিটের বদলে নগদ লেনদেনের অভিযোগে প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মুখে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র অনুযায়ী, কলকাতা ও আশেপাশের কয়েকটি পাড়া ও পঞ্জায় পুজোর আয়োজনের জন্য টিকিট বিক্রি করা হয়, যেখানে টিকিটের দামের অংশই গোপনে দান বা ‘ব্রেডকাম’ হিসেবে গৃহীত হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রতিবাদী দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই অভিযোগকে ‘সাংস্কৃতিক সম্পদকে বাণিজ্যিকভাবে হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগে রূপান্তরিত করেছে। তারা দাবি করে যে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব বহন করে, টিকিটের মাধ্যমে লুকানো আর্থিক লেনদেন এই দায়িত্বকে নষ্ট করে।
মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রথমিক FIR দায়ের হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দিল্লি হাই কোর্টের অধীনস্থ এক বিশেষ কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা বলছেন, যদি সত্যিই টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে তবে তা ‘অবৈধ আর্থিক লেনদেন’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও, এই ধরনের অভিযোগের প্রভাব সমাজে গভীরভাবে ছাপ ফেলতে পারে। সংস্কৃতির স্বকীয়তা রক্ষার জন্য সবারই দায়িত্ববোধের প্রয়োজন, আর যে কোনো ধরণের অর্থনৈতিক লভ্যাংশের চেষ্টাকে কঠোর আইনি কাঠামোতে ধরা হবে।
উপসংহারে বলা যায়, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দুর্গাপুজোর মর্যাদা বাড়িয়েছে, তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে তা সমাজের আস্থা হ্রাসের কারণ হতে পারে। আইন রক্ষা করা, সংস্কৃতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা—এই দুটোই একসাথে চলা সম্ভব, যদি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ ন্যায়ের পথে অটল থাকে।



