
১১ নয়, এবার ৮ জন! বিশ্ব ফুটবলে বড় বদল আনছে ফিফা, আসছে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ
২০২৬ সাল থেকে চালু হতে চলেছে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল। ১১ জনের বদলে ৮ জনের ফুটবল ফরম্যাট চালু করে কিশোর ফুটবলারদের দক্ষতা বাড়াতে চাইছে ফিফা।
বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় এবার আমূল পরিবর্তনের পথে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য বড় খবর এই যে, ২০২৬ সাল থেকে চালু হতে চলেছে একেবারে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা— 'ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল'। সাধারণত আমরা বিশ্বকাপ মানেই ১১ জনের ফুটবল দেখে অভ্যস্ত, কিন্তু কিশোরদের এই বিশেষ টুর্নামেন্টে বড়সড় চমক দিতে চলেছে ফিফা। শোনা যাচ্ছে, এই প্রতিযোগিতায় মাঠের খেলোয়াড় সংখ্যা ১১ জনের বদলে কমিয়ে ৮ জন করা হতে পারে।
ফিফার এই নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোর ফুটবলারদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং খেলার গতি বাড়ানো। ছোট বয়সেই খেলোয়াড়দের বল কন্ট্রোল, পাসিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে এই ছোট ফরম্যাট অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর ফলে মাঠের জায়গা বাড়বে এবং প্রতিটি খেলোয়াড় বলের সংস্পর্শে বেশি সময় থাকবে, যা তাঁদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। মূলত তৃণমূল স্তরে ফুটবলের গুণমান উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ।
শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়, এই ইভেন্টটিকে একটি 'ফেস্টিভ্যাল' বা উৎসবের রূপ দিতে চায় ফিফা। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কিশোর খেলোয়াড়রা যেমন নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে, তেমনই ফুটবল সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটবে। ২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টটি যদি সফল হয়, তবে আগামী দিনে অন্যান্য বয়সের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও এই ধরণের ছোট ফরম্যাটের কথা ভাবা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে এখন গতির গুরুত্ব অপরিসীম। অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরে এই বদল আনলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলাররা আরও বেশি আক্রমণাত্মক এবং সৃজনশীল হয়ে উঠবে। যদিও প্রথাগত ফুটবল প্রেমীদের কাছে ১১ জনের খেলা চিরকালই সেরা, তবে নতুন প্রজন্মের জন্য এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। কিশোর ফুটবলারদের জন্য খুলে যাওয়া এই নতুন দরজা আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে আরও অনেক দক্ষ তারকা উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার, ফিফার এই সাহসী পদক্ষেপ মাঠের খেলায় ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।




