সেবক‑কালীবাড়ির কাছে ভয়াবহ ধস, শিলিগুড়ি‑সিকিম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
state9 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

সেবক‑কালীবাড়ির কাছে ভয়াবহ ধস, শিলিগুড়ি‑সিকিম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

প্রবল বৃষ্টির কারণে সেবক‑কালীবাড়ি ও করোনেশন ব্রিজের মাঝামাঝি ১০‑নম্বর জাতীয় সড়কে বিশাল ধস ঘটেছে, ফলে শিলিগুড়ি‑সিকিম যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রেসকিউ দল কাজ চালু করলেও, ধসের গাঢ় গণ্ডি ও বৃষ্টির স্রোত পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

প্রবল বৃষ্টির বন্যা ঢুকে পড়ার পর সেবক‑কালীবাড়ি ও করোনেশন ব্রিজের মাঝামাঝি ১০‑নম্বর জাতীয় সড়কে বিশাল ধস ঘটেছে। ধসের ফলে সড়কের দু’ধারে গাছের ডাল, মাটির গাদা ও বড় বড় পাথর একসাথে ঢুকে গিয়ে রাস্তাটিকে অদৃশ্য করে দিয়েছে। রেসকিউ দল তৎক্ষণাৎ এলাকায় পৌঁছাতে পারলেও, গাঢ় স্যাঁতসেঁতে মাটির গণ্ডি ও বৃষ্টির স্রোত তাদের কাজকে কঠিন করে তুলেছে।

ধসের তাত্ক্ষণিক প্রভাব সর্ববৃহৎ—শিলিগুড়ি থেকে সিকিমের রাজধানী গঙ্গাটাক, তাছাড়া কালিম্পংয়ের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যাত্রী, পণ্য ও জরুরি সেবা সরবরাহের গতি হঠাৎ থেমে যায়; বহু বাস, ট্যাক্সি ও ট্রাক চালকরা অচলাবস্থা ভোগ করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বিকল্প পথ নির্দেশ করার চেষ্টা করেছে, তবে বিকল্প রুটও বৃষ্টির কারণে হ্রদে ভাসমান জলের স্রোতে ভাসছে।

শহরের জরুরি সেবা বিভাগ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একত্রে রেসকিউ মিশন চালু করেছে। ড্রোনের মাধ্যমে ধসস্থল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, আর হেলিকপ্টার দিয়ে শিলিগুড়ি-সিকিম রেলওয়ে স্টেশনগুলিতে জরুরি সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে, গুটিকয়েক ঘন্টা পরেও ধসের কারণে রাস্তাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর জন্য বড় অসুবিধা তৈরি করেছে।

প্রশাসন বলেছে, বৃষ্টির পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত সড়ক পুনরুদ্ধার কাজ চলবে, আর ধসের মূল কারণ হিসেবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দুর্বল মাটির গঠনকে প্রধান দায়িত্বে ধরা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, যেন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন এবং জরুরি অবস্থায় সংশ্লিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত, সড়ক পুনরুদ্ধার ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপসংহারে বলা যায়, সেবক‑কালীবাড়ির কাছাকাছি ঘটিত এই ভয়াবহ ধস শিলিগুড়ি ও সিকিমের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন জালের উপর আঘাত হানেছে। যদিও রেসকিউ দল ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সামলে নিতে চেষ্টা করছে, তবু বৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও ভূগর্ভস্থ মাটির দুর্বলতা একত্রে এই ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ ও প্রাক-প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX