
তিন যুদ্ধে লড়াই করা প্রাক্তন সেনার এবার নিজের জমির জন্য ‘চতুর্থ যুদ্ধ’, জাল দলিলের কারসাজিতে হারালেন ২৫ বিঘা জমি
তিন যুদ্ধের অভিজ্ঞ প্রাক্তন সেনা আধিকারিক অভিযোগ করেছেন যে, জাল দলিলের মাধ্যমে তাঁর ২৫ বিঘা জমি দখল করা হয়েছে। ৯২ বছর বয়সে এখন নিজের ভিটেমাটির জন্য আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন এই প্রাক্তন যোদ্ধা।
দেশরক্ষা করতে ১৯৬২, ১৯৬৫ এবং ১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি। শত্রুর সামনে মাথা নোয়ানো প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের বয়স এখন ৯২। কিন্তু জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে এক অদ্ভুত লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, জাল দলিলের কারসাজি করে তাঁর পৈতৃক ২৫ বিঘা জমি হাতিয়ে নিয়েছে একদল ভূমি মাফিয়া। দেশের সীমান্ত রক্ষা করা এই বীর যোদ্ধার লড়াই এখন নিজের ভিটেমাটির জন্য।
প্রাক্তন এই সেনা আধিকারিকের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু অভিযোগের কথা জানা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জাল নথি তৈরি করে তাঁর জমির মালিকানা অন্যের নামে করে দেওয়া হয়েছে। যে মানুষটি একসময় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রেখেছিলেন, আজ তিনি নিজের অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই লড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন। কিন্তু ৯২ বছর বয়সেও হার মানতে রাজি নন এই প্রাক্তন সেনা সদস্য। তাঁর মতে, এটি কেবল জমি দখলের লড়াই নয়, বরং একজন প্রাক্তন সৈনিকের আত্মসম্মানের লড়াই। তিনি মনে করেন, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের এভাবে ঠকানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই ঘটনাটি প্রশাসনের উদাসীনতা এবং ভূমি দপ্তরের গাফিলতির দিকেই আঙুল তোলে। জাল দলিলের মাধ্যমে কীভাবে এত বড় পরিমাণ জমি হস্তান্তর করা সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান সময়ে এই ধরণের জমি দখলের ঘটনা বেড়েই চলেছে, যেখানে বয়স্ক ও অসহায় মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এখন দেখার যে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন। একজন প্রাক্তন বীর সেনার এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে, নাকি আইনি জটিলতার জালে আটকে যাবে তাঁর ন্যায়বিচার? এই ঘটনাটি সমাজের এক씁ি বাস্তবতাকে সামনে এনেছে, যেখানে বীরত্বের সম্মান ছাপিয়ে চলে যাচ্ছে লোভ আর কারসাজি।




