
কলকাতা‑শিলিগুড়ি রিং রোডে সবুজ সংকেত, দুই শহরের মানচিত্র বদলে যাবে
কলকাতা‑শিলিগুড়ি রিং রোড প্রকল্পে কেন্দ্রীয় তহবিলের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। রিং রোডের নির্মাণে গতি বাড়বে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কলকাতা‑শিলিগুড়ি রিং রোড প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিল (CRIF) থেকে অনুমোদন পাওয়া সংবাদটি শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি প্রধান সড়ক প্রকল্পের জন্য মোট ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে এই রিং রোডের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন নিশ্চিত হয়েছে। রিং রোডের মাধ্যমে কলকতায় থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সংযোগের গতি বাড়বে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে এবং লজিস্টিক খরচ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১১০ কিলোমিটার মূলত নতুন সেতু ও ভিড়‑নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিং রোডের বেশিরভাগ অংশ গড়ে ৮০ কিমি/ঘণ্টা গতি সীমা থাকবে, যা বর্তমান রুটের তুলনায় গড়ে ৪০ শতাংশ দ্রুত গতি নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, রুটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিল্প পার্ক ও বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিং রোডের সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা ও শিলিগুড়ি মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে; প্রকল্পে স্বল্পতম পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিত করতে গাছ রোপণ ও জলাশয় সুরক্ষার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।
সর্বোপরি, রিং রোডের সবুজ সংকেত শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতি নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সময়মতো কাজ সম্পন্ন হলে, এই রেল‑সড়ক সংযোগ দুই শহরের মানচিত্রে নতুন রঙ যোগ করবে এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে সুদূরপ্রসারী সুফল নিয়ে আসবে।




