
প্রবল বৃষ্টিতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরনো বাড়ি, দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু বৃদ্ধার
উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরনো এক বাড়ি। দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু এক বৃদ্ধার, এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক।
শহরের প্রবল বর্ষণে সাতসকালেই বড়সড় বিপর্যয়। উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থানার অন্তর্গত পাথুরিয়াঘাটার ব্রজদুলাল স্ট্রিটে একটি ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাড়ির ভেতরে থাকা এক বৃদ্ধা দেওয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃষ্টির তোড়ে পুরনো ইমারতটি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই আচমকা এই ধস নামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির কারণে বাড়ির ভিত ভিজে নরম হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বাড়ির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে রাস্তার দিকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। দমকল বাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ওই বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে। মৃতার বয়স যথেষ্ট বলে জানা গিয়েছে, তবে এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলকাতার অনেক পুরনো এলাকায় এই ধরনের জরাজীর্ণ বাড়ির সংখ্যা প্রচুর। বর্ষাকালে এই বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে অনেক বাড়িকে 'বিপজ্জনক' বলে চিহ্নিত করা হলেও, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বাড়ি মালিক সময়মতো মেরামতির কাজ করতে পারেন না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এই ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া বাড়ির বাকি অংশটি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে ওই এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং আশপাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত বাড়িটির বাকি অংশ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে যাতে পথচারীদের কোনো অসুবিধা না হয় এবং পুনরায় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি শহরের পুরনো ইমারতগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। বর্ষার মরসুমে পুরনো বাড়িগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না করালে ভবিষ্যতে আরও বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন যাতে সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকে।




