বৃষ্টির রাতে ভূমিকম্পের কম্পন, আতঙ্কে মাঝরাতে রাস্তায় নামলেন শিলিগুড়িবাসী
রাজ্য2 দিন আগে১ মিনিট পড়ুন

বৃষ্টির রাতে ভূমিকম্পের কম্পন, আতঙ্কে মাঝরাতে রাস্তায় নামলেন শিলিগুড়িবাসী

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

মিনিটপ্রবল বৃষ্টির মাঝেই রবিবারের গভীর রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল শিলিগুড়ি। আতঙ্কে মাঝরাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের।

< 1 মিনিট

প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাতে যখন বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, ঠিক তখনই রবিবারের গভীর রাতে আচমকা ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠল শিলিগুড়ি শহর। মেঘগর্জনের শব্দের মাঝেই যখন মানুষ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। অনেকেই বুঝতে পারেননি যে এটি বজ্রপাতের শব্দ নাকি মাটির নিচে কোনো কম্পন, কিন্তু যখন আসবাবপত্র দুলতে শুরু করল, তখন আতঙ্ক চরমে পৌঁছায়।

আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে বহু মানুষ দ্রুত নিজেদের বাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মাঝরাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিড় জমে। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, বড় কোনো বিপর্যয়ের সংকেত কি এটি? বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান যেহেতু সিসমিক জোনে, তাই সামান্য কম্পনই স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর আশঙ্কার জন্ম দেয়। বৃষ্টির রাত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর কাছে তখন ছাতা বা বৃষ্টির পোশাক ছিল না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কম্পনটি বেশ কিছু মুহূর্ত ধরে স্থায়ী হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবে অনেক বাড়ির জানলার কাঁচ এবং কিছু পুরনো দেওয়ালে সূক্ষ্ম ফাটলের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ঠিক কত ছিল, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্যের অপেক্ষা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বৃষ্টির মরসুমে যখন মাটি নরম থাকে, তখন ভূমিকম্পের প্রভাব অনেক সময় ভিন্নভাবে অনুভূত হতে পারে। তবে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ভেঙে পড়ার খবর না আসায় স্বস্তি মিলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই দ্বিমুখী ধাক্কায় শিলিগুড়ির মানুষ এক রাতের জন্য চরম মানসিক উদ্বেগের মুখে পড়েছিলেন। বৃষ্টি আর ভূমিকম্পের এই অদ্ভুত সংমিশ্রণ স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় এখন স্বাভাবিকতা ফিরছে। তবে আগামী কয়েকদিন সতর্ক থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX