
যাদবপুরে রেল দফতরের বুলডোজার অভিযান, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হকাররা
মিনিটযাদবপুরে রেলের জমি থেকে হকার উচ্ছেদে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের রায়ের ওপর এখন নির্ভর করছে অভিযানের ভবিষ্যৎ।
যাদবপুর এলাকায় রেল দফতরের অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রেলের জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে চলা এই ‘বুলডোজার অভিযান’-এ বহু হকারের দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হলে, ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতারা প্রাথমিক স্বস্তির জন্য এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে হকারদের বসতি ও বাণিজ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি রেল দফতর এই অবৈধ দখল সরাতে তাদের তাগিদ দেওয়া হলেও, অনেকেই স্থান ত্যাগ না করায় শেষ পর্যন্ত ভাঙতির পথে হাঁটতে বাধ্য হয় কর್ತৃপক্ষ। কিন্তু হকারদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তাঁদের পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে হকাররা জানিয়েছেন, রেল দফতর তাঁদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করেনি। তাঁদের যুক্তি, রাস্তার ধারে বা রেললাইনের পাশে দোকান বসিয়ে যাঁরা রোজগার করেন, তাঁদের একঝলকে উচ্ছেদ করা হলে সমাজে গভীর প্রভাব পড়বে। আইনজীবী সূত্রের খবর, আদালত প্রাথমিকভাবে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং মঙ্গলবার বিস্তারিত শুনানির দিন ধার্য হতে পারে।
রেল দফতরের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রেলের জমি দখল হয়ে থাকায় নিয়মিত ট্রেন চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। তাই বারবার সতর্কতা জারি করার পরও যখন হকাররা সরে যাননি, তখনই বাধ্য হয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত যদি হকারদের আবেদনে স্থগিতাদেশ বা অন্তবর্তীকালীন রক্ষার নির্দেশ দেন, তবে উচ্ছেদ অভিযান অন্তত কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। তবে রেল দফতর জানিয়েছে, তারা তাদের নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবে।



