ক্যালেন্ডারে বর্ষা এলেও বৃষ্টির আকাল, অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস দেশ; কেন এই খরা পরিস্থিতি?
weather4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ক্যালেন্ডারে বর্ষা এলেও বৃষ্টির আকাল, অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস দেশ; কেন এই খরা পরিস্থিতি?

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ক্যালেন্ডারে বর্ষার আগমন ঘটলেও বৃষ্টির অভাবে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশে। তীব্র গরম আর ভ্যাপসা অস্বস্তিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এবং দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বায়ুর এই খামখেয়ালিপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা এসে গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুও দেশের বিস্তীর্ণ অংশে প্রবেশ করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। খাতায়-কলমে বর্ষার আগমন ঘটলেও বৃষ্টির দেখা কার্যত নেই। আকাশ মেঘলা হলেও তা থেকে জল পড়ার অপেক্ষা করে ক্লান্ত সাধারণ মানুষ। তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে এখন রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে দেশের কোটি কোটি মানুষকে। বৃষ্টির অভাবের কারণে খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মহলে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, মৌসুমি বায়ুর গতিবিধি এবং বায়ুমণ্ডলের চাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, কিন্তু এল নিনো-র প্রভাব এবং সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টির ছন্দ বদলে গিয়েছে। ফলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে আকাশ পরিষ্কার থেকে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে।

এই খরা পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজে। খরিফ চাষের জন্য কৃষকরা এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে মাঠের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সেচের জল দিয়ে সাময়িকভাবে কাজ চালানো গেলেও, দীর্ঘমেয়াদী খরা পরিস্থিতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে আগামী দিনে খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শহর কলকাতার পরিস্থিতিও খুব একটা সুখকর নয়। ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। আর্দ্রতা বাড়ায় ঘাম আর অস্বস্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অসুস্থ বৃদ্ধ এবং শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবন নয়, বরং বাস্তুতন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সামগ্রিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত বৃষ্টির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে জলসংকট আরও তীব্র হবে। এখন কেবল ভরসা মৌসুমি বায়ুর সঠিক সক্রিয় হওয়ার ওপর। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির দেখা মিলবে এবং এই অসহ্য গরম থেকে মুক্তি পাবেন মানুষ।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX