কানাডার সরকার এখন সুইডেনের বিমান নির্মাতা স্যাবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৭২টি সাব‑গ্রিপেন (Saab Gripen) যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে, যা এফ‑৩৫ জেটের বদলে বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো ব্যয়বহুল এফ‑৩৫ প্রকল্পের তুলনায় গ্রিপেনের তুলনামূলক কম দামের প্রস্তাব, যা কানাডার বাজেটের চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
সুয়েডিশ সরকারও এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছে, যেখানে গ্রিপেনের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের একটি বড় অংশ কানাডার স্থানীয় শিল্পে স্থানান্তর করা হবে। ফলে, দেশের এয়ার ফোর্সের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কানাডার রাজনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি শুধুমাত্র সস্তা নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে আরও বহুমুখী। সুইডেনের সঙ্গে ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া বিক্রয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে। একই সময়ে, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ও মেরিন এয়ার ডিফেন্সের মতো বিশেষ চাহিদা পূরণে গ্রিপেনের আধুনিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রশংসা করা হচ্ছে।
এই বিকল্পের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, শেষমেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী পার্টনারশিপের স্থায়িত্ব বিবেচনা করা হবে।
অবশেষে, যদি কানাডা গ্রিপেনের চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছে, তবে এটি দেশের রক্ষণশীল নীতি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বহুমুখী আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেও শক্তিশালী করবে, এবং এফ‑৩৫ প্রকল্পের তুলনায় অধিক স্বচ্ছতা ও অর্থবহ ফলাফল প্রদান করবে।
