
২০২৫‑২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ইলেক্ট্রনিক্স রফতানি ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫‑২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ইলেক্ট্রনিক্স রফতানি ১১ গুণ বেড়ে ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই দ্রুত বৃদ্ধি সেলফোন ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের রপ্তানির ফলে ঘটেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নববর্ষের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ২০২৫‑২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ইলেক্ট্রনিক্স রফতানি আগের দশকের তুলনায় ১১ গুণ বাড়ে এবং এর মোট মূল্য ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০১৪‑১৫ অর্থবর্ষে রফতানি মাত্র ৩৮১ কোটি ডলারে ছিল, আর আজকের অঙ্ক দেখায় যে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও গ্লোবাল চাহিদা দুটোই চমৎকারভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে সেলফোন, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং অটোমোটিভ ইলেকট্রনিক্সের রপ্তানি, যা মোট রফতানির অর্ধেকেরও বেশি অংশ গঠন করছে। বিশেষ করে স্যামসাং, শাওমি, রিয়েল্টি ইত্যাদি বড় বড় ব্র্যান্ডের উৎপাদন বাড়ার ফলে বিদেশি বাজারে ভারতীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
সরকারের “মেক ইন ইন্ডিয়া” ও “ডিজিটাল ইন্ডিয়া” উদ্যোগের ফলে রপ্তানি করা পণ্যগুলোতে উচ্চ মানের মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি ও ট্যারিফ সুবিধা পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) হ্রাস, রপ্তানি প্রণোদনা এবং প্রযুক্তি গবেষণায় আর্থিক সহায়তা এই অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেজাল্ট কেবলমাত্র আর্থিক পরিসংখ্যানেরই নয়, দেশের কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইলেক্ট্রনিক্স ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ার ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা বেকারত্ব হ্রাসে সহায়তা করবে।
অবশেষে, যদি সরকার এবং শিল্পক্ষেত্রের সমন্বয় বজায় থাকে, তবে আগামী দশকে ভারতের ইলেক্ট্রনিক্স রফতানি আরও বাড়িয়ে ১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতকে শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।




