
‘বিয়ের পর সত্যিটা সামনে আসে’, বিস্ফোরক অভিযোগে প্রভাসের স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল খুললেন মুখ
বারুইপুরে নাবালিকা হত্যার মামলা নিয়ে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর, স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল “বিস্ফোরক” অভিযোগ তুলে সত্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি স্বামীর ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বারুইপুরে নাবালিকা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের অকাল মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর, আজ সকালে তার স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল হঠাৎ জোরে কথা খুলে দিলেন। গৃহস্থালীর দরজার জবাবদিহি করে যে অভিযোগগুলোকে “বিস্ফোরক” বলছেন, তা এই গুছি গুছি ঘটনার সত্যিকারের কাঠামো উন্মোচন করতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন। চাঁপা মণ্ডল বলেন, বিয়ের পরই প্রভাসের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল; তবু তিনি সবার সামনে গোপনীয়তা রক্ষা করে চুপ থাকতেন।
মন্ত্রিসভা ও পুলিশে নথিভুক্ত প্রভাসের পিএসআই রেকর্ডে দেখা যায়, তার গৃহে অতিরিক্ত জামানত, নগদ লেনদেন এবং অযৌক্তিক ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। চাঁপা মণ্ডল এই সবকে “অসত্যি অভিযোগ” বলে বাদ দিলেন, তবে স্বীকার করলেন, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের গোপন দিকগুলোই শেষ পর্যন্ত প্রকাশের গতি বাড়িয়ে দিল। “বিয়ের পর সত্যিটা সামনে আসে, আর আমি এখনো জানি না কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যা” তিনি বললেন।
পুলিশের মন্তব্য অনুসারে, প্রভাসের মৃতদেহের পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং তার মৃত্যুর কারণ নির্ধারিত হয়েছে। তবে চাঁপা মণ্ডল দাবি করেন, তদন্তে কিছু মূল তথ্য বাদ পড়েছে, যা সত্যিকারের ঘটনাবলীকে অন্ধকারে ধাক্কা দেবে। তিনি আদালতে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করবেন এবং প্রভাসের নিকটের বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ঘটনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন।
এই ঘটনার পর, বারুইপুরের স্থানীয় মানুষও উদ্বেগে আচ্ছন্ন। নাবালিকা হত্যার মামলায় সমাজের ক্ষোভ বাড়ার পাশাপাশি, প্রভাসের পরিবারের মানসিক ভারী দায়িত্বেও ছাপ পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন রকম গোপনীয়তা ও অভিযোগের মিশ্রণ সমাজের ন্যায়বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এবং ভবিষ্যতে আইনের দায়িত্বশীল প্রয়োগের প্রয়োজন বাড়াবে।
শেষ কথা, চাঁপা মণ্ডল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি স্বামীর ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং সত্যের আলোয় সব অনির্দিষ্টতা দূর করতে সচেষ্ট থাকবেন। এই সংকল্পই শেষ পর্যন্ত সমাজের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষে কাজ করবে, এটাই তার দৃঢ় বিশ্বাস।




