
২০২৮ থেকে শুরু হবে মোদী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গ্রেট নিকোবর’ প্রকল্প
মোদি সরকারের ‘গ্রেট নিকোবর’ প্রকল্প ২০২৮ সালে শুরু হবে, যেখানে বন্দর, বিমানবন্দর ও শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকারের প্রশ্নে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
মোদি সরকারের নতুন রণনীতির অংশ হিসেবে ‘গ্রেট নিকোবর’ প্রকল্পের সূচনা ২০২৮ সালে হতে চলেছে, এ খবরের পরেই শিল্প ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উত্তেজনা প্রকাশ করছেন। প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে নিকোবর দ্বীপ, যা ভারতীয় উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এবং ভৌগোলিকভাবে ভারতের সর্বোচ্চ প্রান্তের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর, বিমানবন্দর, ও শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভারতকে সমুদ্র পথে চীন ও অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় আরো প্রতিযোগিতামূলক করবে।
প্রকল্পের মোট বাজেট প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন টেকা, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ঐতিহাসিক অঙ্ক। বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিকোবরের নতুন বন্দর গড়ে ভারত-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক রুটকে দ্রুততর করবে এবং জাহাজের চালনা সময় কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি, এখানে একটি গবেষণা কেন্দ্র ও ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নে পরিবেশবাদী গোষ্ঠী ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে উদ্বেগের স্রোত দেখা যাচ্ছে। নিকোবর দ্বীপের স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য কঠোর পরিবেশ মূল্যায়ন করা হবে বলে সরকার বলছে, তবে বাস্তবায়ন সময়ে কীভাবে তা নিশ্চিত হবে, তা এখনও প্রশ্নের মুখে। স্থানীয় জনগণের পুনর্বাসন ও জীবিকার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে যথাযথ পরিকল্পনা দরকার।
‘গ্রেট নিকোবর’ প্রকল্পের সফলতা ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে একটি মাইলফলক হিসেবে গড়ে তুলবে। এটি শুধু বাণিজ্যিক দিকেই নয়, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে সব দিক বিবেচনা করে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা দরকার, যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসাথে এগিয়ে যায়। শেষমেশ, এই বিশাল উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে।




