দিঘার সৈকতে আর নেই ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব, পালাবদলের পর স্মৃতিমুছে নতুন সাজে পর্যটন শহর
state2 দিন আগে১ মিনিট পড়ুন

দিঘার সৈকতে আর নেই ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব, পালাবদলের পর স্মৃতিমুছে নতুন সাজে পর্যটন শহর

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

পুরনো দিঘার সৈকত থেকে সরিয়ে ফেলা হলো প্রাক্তন সরকারের ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পর্যটন শহরের এই দৃশ্য বদল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল পর্যটন শহর দিঘার সৈকতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার অন্যতম পরিচিত চিহ্ন ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোবটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে পুরনো দিঘা থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এবং উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যটি এখন আর সেখানে নেই। নতুন সরকারের পদক্ষেপের পর থেকেই সৈকতের এই দৃশ্য বদলে গিয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

সাধারণত যেকোনো সরকারের পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত কিছু বদল দেখা যায়, তবে দিঘার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্ব বাংলা গ্লোবটি কেবল একটি স্থাপত্য ছিল না, বরং তা ছিল রাজ্যের ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন প্রসারের এক বড় হাতিয়ার। বহু পর্যটক এই গ্লোবের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। কিন্তু নতুন প্রশাসনের দৃষ্টিতে সম্ভবত এই স্থাপত্যটি প্রাক্তন সরকারের রাজনৈতিক প্রচারের অংশ ছিল, তাই একে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই সৈকতের সাজসজ্জায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কেবল বিশ্ব বাংলা গ্লোব নয়, আরও কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন বা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধন এবং নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সৈকতের রূপ বদলে দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল সৌন্দর্যবর্ধন নয়, বরং পূর্বতন সরকারের চিহ্ন মুছে ফেলার একটি প্রক্রিয়া।

এই ঘটনাটি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহাওয়া এবং ক্ষমতার পালাবদলের এক স্পষ্ট প্রতিফলন। দিঘার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে এই ধরনের পরিবর্তন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ একে আধুনিকীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন যে শিল্পের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, দিঘার এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন সরকার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক্তন সরকারের ছাপ মুছে নিজেদের নতুন পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ পর্যটনের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে। আপাতত, পুরনো দিঘার পরিচিত সেই গ্লোবটি ইতিহাসের পাতায় চলে গেল, আর সৈকতের দিগন্তে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX