
শিবপুরে শালিমার কয়লা ডিপোর পাশে অবৈধ দোকান‑হকার উচ্ছেদে বুলডোজার চালু
শিবপুরে শালিমার কয়লা ডিপোর পাশে অবৈধ দোকান‑হকারের ওপর বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালু হয়েছে; বুলডোজার দিয়ে গড়ে ওঠা কাঠামো ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বাসন পরিকল্পনা গঠনের সূচনা করা হয়েছে।
শিবপুরে শালিমার কয়লা ডিপোর সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান‑হকারের ওপর শাসনামলে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বুলডোজার গলি গলি করে গাছের ছায়া ও অস্থায়ী কাঠামো ধ্বংস করে, যাতে ভবিষ্যতে আবারো অবৈধ বাণিজ্য না ফুঁটে ওঠে। ডিপোর নিরাপত্তা সংরক্ষণের জন্য এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের মুখ্য মুখবাণী।
অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের মধ্যে গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। বেশ কয়েকজন হকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপত্তি জানাতে গিয়ে বুলডোজার রোডের পাশে নিরাপদে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশ ও পৌরসভা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন, আর ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি এখনো রেলিভ্যান্ট নোটিশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শিবপুরের বাসিন্দারা জানিয়ে বলছেন, অবৈধ দোকানগুলো কখনও কখনও এলাকার দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতেও সহায়ক ছিল, তবে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণেই এই ধ্বংসাত্মক কাজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কিছু স্থানীয় সমাজকর্মীও উল্লেখ করেছেন, উচ্ছেদ অভিযানের পরে সঠিক পরিকল্পনা না করলে পুনরায় হকারদের ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়ে যায়।
অবশেষে, শিবপুর পৌরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমন্বয়ে একটি স্বল্পমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় হকারদের জন্য নির্ধারিত বাজার স্থাপন, স্বাস্থ্যের দিক থেকে শর্ত পূরণ করা এবং পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আশা করা যায়, এই পদক্ষেপগুলো অবৈধ বাণিজ্যের চক্র ভাঙতে কার্যকর হবে।
উপসংহারে বলা যায়, শালিমার কয়লা ডিপোর পাশে অবৈধ দোকান‑হকারের উচ্ছেদ অভিযান শহরের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিশ্রান্তি বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে সঠিক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না হলে সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন। তাই প্রশাসনের উচিত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে কাজ করা, যাতে শিবপুরের গৃহস্থালির মঙ্গল আর বজায় থাকে।

