
**মোদী সরকারের গুজরাটের ডাং জেলায় ৩০১টি গ্রামে হনুমান মন্দির‑ঘর গঠনের গৃহ‑ওয়াপসি অভিযান ঘোষিত**
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গুজরাটের ডাং জেলার ৩০১টি গ্রামে হনুমান মন্দির‑ঘর গঠনের মাধ্যমে গৃহ‑ওয়াপসি অভিযান চালু করেছে। উদ্যোগটি ধর্মীয় পুনঃপ্রবেশের নতুন দিক উন্মোচন করলেও, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈচিত্র্যময় প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
গুজরাটের আদিবাসী অধিষ্ঠিত ডাং জেলার ৩০১টি গ্রামে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) আজ রাত্রি ঘোষণা করেছে। ভিএইচপি ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “প্রতি গ্রামে একটিমাত্র হনুমান মন্দির‑ঘর গঠন করে গৃহ‑ওয়াপসির কাজকে ত্বরান্বিত করা হবে” এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
ডাং জেলা, যা পূর্বে মূলত আদিবাসী জনগণের বাসস্থান এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত, সেখানে হিন্দু ধর্মের পুনঃপ্রবেশের প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। ভিএইচপি স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে সমন্বয় করে, গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হিন্দু ধর্মের প্রতি আস্থা জাগ্রত করার লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সেবা কার্যক্রম চালু করবে।
অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা এই উদ্যোগের প্রতি দ্বিধা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, ধর্মীয় পরিবর্তন তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে হুমকি দিতে পারে এবং সামাজিক সাম্য বজায় রাখার জন্য সমন্বিত আলোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কিছু হিন্দু সংগঠন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই পদক্ষেপকে “জাতীয় ঐক্যের প্রতীক” বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহ‑ওয়াপসির মতো উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার ওপর। যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে অতিরিক্ত চাপ বা জোরপূর্বক পরিবর্তন সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সমগ্র দেশজুড়ে ধর্মীয় পুনরায় সংযোজনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, গুজরাটের এই প্রকল্পের ফলাফল অন্যান্যের জন্যও এক মডেল হতে পারে। তাই, ডাং জেলার গৃহ‑ওয়াপসির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন ও সামাজিক সমন্বয় উভয়ই রক্ষা পায়।




