
সাড়ে তিন মাসেই শেষ বার্ষিক বরাদ্দের ৪০ %—সার ভর্তুকির বোঝা বাড়তে পারে
প্রথম সাড়ে তিন মাসে ৭০,৭০৯ কোটি টাকার সার ভর্তুকি ব্যয় করে কেন্দ্রীয় সরকার বার্ষিক বরাদ্দের ৪০ %ই ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পরের ছয় মাসে ব্যয় বাড়লে আর্থিক বোঝা বাড়তে পারে।
প্রথম ছয় মাসের অর্ধেক সময়ে চলতি ২০২৬‑২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটের মাত্র ৪০ %ই সার ভর্তুকি (Fertiliser Subsid) বাবদ ব্যয় হয়েছে। মাত্র সাড়ে তিন মাসে ৭০,৭০৯ কোটি টাকার খরচের পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ায় আর্থিক বিশ্লেষকরা সতর্ক সংকেত দিচ্ছেন যে, পরবর্তী ছয় মাসে এই ব্যয় বাড়লে বার্ষিক বরাদ্দের সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি রয়ে যাবে।
পূর্বে ২০২৪‑২৫ আর্থিক বছরে সার ভর্তুকির মোট ব্যয় প্রায় ১,২০,০০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার তৎকালীন বাজেটের ৩৫ %ই এ কাজে ব্যবহার করেছিল। এবার ৪০ % ব্যবহার করে এমন দ্রুতগতি দেখায় যে, কৃষি চাহিদা ও আন্তর্জাতিক পণ্যের দামের উত্থান কেন্দ্রীয় ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক গন্ধক ও ইউরিয়া মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা, শস্য উৎপাদনকে অনিয়মিত করেছে। ফলে কৃষকদের উপর ভর্তুকি বাড়িয়ে দিতেই হচ্ছে, না হলে শস্য উৎপাদনে হ্রাস এবং মূল্যের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ব্যয় বাড়লে রাজ্যগুলোর নিজস্ব কৃষি সহায়তার ক্ষমতা হ্রাস পাবে। রাজ্য বাজেটের ঘাটতি কমাতে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সম্ভাবনা বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অতএব, সরকারকে এখনই সার ভর্তুকির কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা যায় এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। সমন্বিত নীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ছাড়া ভর্তুকির বয়ে আনা বোঝা বাড়ে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।




