কোলকাতা—ন্যাশনাল ইনসিটিউট অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভস (এনআইএ) হেফাজতে শওকতের সেন এবং তার ছোট ভাই অভিষেক মজুমদার রাতের খাবার না পেয়ে অনাহারেই কাটাতে বাধ্য হয়েছে, পরিবারিক সূত্রে আজ প্রকাশিত অভিযোগে জানা গেল। দুজনের হেফাজতে প্রবেশের পর থেকে কোন খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়নি, ফলে তারা রাতের শেষ পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ রাখে ঘুমিয়ে পড়ে।
শওকতেরের পরিবার জানিয়েছে, তাদের বোনের মাধ্যমে জানার পর হেফাজতে পৌঁছে তারা দেখল দুজনের মুখে কোনো খাবার নেই, তবু সিলিং, দরজা ও জানালার ঠিক কাঁধে রেজিস্ট্রেশন চিহ্ন রেখে গৃহস্থালির খাবার সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এ বিষয়টি এনআইএর উচ্চতর কর্মকর্তাদের নোটিশে উঠে আসে, তবে এখনো কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
অভিষেকের মা, ঝিলু মজুমদার, রক্তাক্ত রাগে বলেন, “আমাদের সন্তানদের হেফাজতে অনাহারেই রাত কাটতে হয়—এটা মানবিকতার লঙ্ঘন। সরকার যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, খাবারের ব্যবস্থা করে এবং হেফাজতকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।”
এই ঘটনার উপর সমাজে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি আইনগত পর্যালোচনাও দরকার, কারণ হেফাজতে মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হতে পারে। এনআইএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি, যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
উপসংহারে বলা যায়, শওকতের ও অভিষেকের অনাহারী রাতের ঘটনা শুধু একক ঘটনাই নয়; এটি হেফাজত ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মানবিক দায়িত্বের অবহেলা প্রকাশ করে। দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা না হলে, জনগণের আস্থা ক্ষয় হবে এবং আইনগত জটিলতা বাড়বে।
