বহুল দর্শকসৈন্যের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি শাখা সমিতি ইদ ও জামাইষষ্ঠী সমাবেশের মঞ্চে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি কাতলা মাছ হাতে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত করেন। মঞ্চে সাজানো রঙিন আলোকসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী ঢাক-নাগা এবং সাদা-সোনার পোশাকের ভিড়কে দেখে স্পষ্টই বোঝা যায়, রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি এই ধর্মীয় উৎসবে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তিওয়ারি মঞ্চে গিয়ে কাতলা মাছের সঙ্গে “মাছের দান, আল-আনদাল” বলে উল্লাসে মেতে উঠেছেন উপস্থিত বিশাল জনতা।
উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখা, তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভোটার সংযোগের একটি কৌশলও বটে। তিওয়ারি বলেছেন, “ইদ ও জামাইষষ্ঠী উভয়ই আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ, এখানেই আমরা একসাথে আনন্দ ভাগ করে নিই, যাতে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে সমৃদ্ধি পায়।” তার কথায় জোর দেওয়া হয়েছে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা একত্রে কাতলা মাছের দান-পরিষ্কারের কাজ করেন। এই দান-পরিষ্কার কার্যক্রমটি ঐতিহ্যবাহী “মাছের দান” রীতি অনুসরণ করে, যেখানে দরিদ্র গৃহস্থালিকে মাছের দান করা হয়। তিওয়ারি নিজে হাতে মাছটি তুলে দিয়ে উপস্থিত গরীব পরিবারকে উপহার দেন, যা জনসাধারণের মাঝে বড় সাড়া ফেলেছে।
বিপিএইচির এই উদযাপনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি “সামাজিক সেতু গড়ে তোলা” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দলটি ভোটার বেসকে ঘনিষ্ঠ করে তুলতে চায়, বিশেষত উত্তর কলকাতার বিভিন্ন গৃহবহির্ভূত এলাকায়। তদুপরি, এই ধরনের উদযাপন পার্টির সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যায়, যেখানে ধর্মীয় ঐক্য বজায় রেখে স্থানীয় উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়।
উপসংহারে বলা যায়, বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এবং বিজেপি শাখা সমিতির ইদ‑জামাইষষ্ঠী উদযাপন শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজনৈতিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে রাজনৈতিক উপস্থিতি মিশিয়ে দলটি জনমত গঠনে নতুন দিক অনুসন্ধান করছে, এবং কাতলা মাছের দান এই উদ্যোগের মানবিক দিককে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
